ডাঃ অরুণকান্তি দাসকে ‘আজীবন সম্মাননা’ প্রদান হৃদয়ের____
বরাক তরঙ্গ, ৯ জানুয়ারি : সংবর্ধনা, সম্মাননা প্রদানসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে শুরু হল কনকপুর হৃদয় সরণীর ৩০তম সর্বজনীন শনিপূজার দু’দিনব্যাপী কর্মসূচি। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রয়াত মলয় ভট্টাচার্য স্মৃতি মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন শিলচর রামকৃষ্ণ মিশনের সম্পাদক স্বামী গণধিশানন্দজি মহারাজ। এরপর শুরু হয় বক্তৃতা, সংবর্ধনা, সম্মাননা প্রদান ও বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ। হৃদয়ের সভাপতি গুণজ্যোতি দত্তের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে হৃদয়ের ‘আজীবন সম্মাননা’ প্রদান করা হয় ডাঃ অরুণকান্তি দাসকে। তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক, চাদর ও উত্তরীয় তুলে দেন মহারাজ গণধিশানন্দজি। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা পাঁচ বিশিষ্ট গুণীজনকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে মহারাজ স্বামী গণধিশানন্দজি বক্তব্যে বলেন, হৃদয়ের কাজে স্বামীজির আলো বর্ষিত হচ্ছে। তিনি হৃদয়ের কাজের প্রশংসা করেন। এবং প্রতিজন কর্মকর্তা যেন সমাজের কাজে নিজেকে আরও বেশি করে নিয়োজিত করতে পারেন এই আশীর্বাদ রাখেন। পাশাপাশি সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া হৃদয় যেন সমাজে নিরলস ভাবে আরও সেবার কাজ করতে পারে এই আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কাছাড় কলেজের অধ্যক্ষ অপ্রতিম নাগ, আগরতলা বীর বিক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্য বিভাস দেব, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী সহ অন্যান্য অতিথিরা। মঞ্চে অতিথির আসনে ছিলেন ৯৭ বছর বয়সী হৃদয়ের আজীবন সম্মাননাপ্রাপ্ত ডাঃ কালীপঙ্কজ চক্রবর্তী, ডাঃ অজিত ভট্টচার্য, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালক ডাঃ শিবানন্দ রায়, ডাঃ শিশির বিশ্বাস, ডাঃ অরুণকান্তি দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ডাঃ সৌমিত্র দেবকে ‘চিকিৎসক সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। ‘শিল্পী সম্মাননা’ পান কল্যাণী দাম। দু’জনলে ‘শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান করা হয়। তাঁরা হলেন ভরাখাই হাইস্কুলের প্রধানশিক্ষক উত্তমকুমার সিং ও শিলচর কলেজিয়েট স্কুলের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষিকা শাশ্বতী রায়। প্রথমবারের মতো ‘ক্রীড়া সংগঠক সম্মাননা’ প্রদান করে হৃদয় এনজিও। বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক তথা শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রাক্তন সভাপতি বাবুল হোড়কে এই সম্মাননা প্রদান করে হৃদয়। সবার হাতে সম্মাননা ও উপহার সামগ্রী তুলে দেন মহারাজ। অনুষ্ঠানে সংস্থার সহ-সভাপতি কল্যাণকুমার চক্রবর্তীকেও সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

এছাড়াও এদিনের অনুষ্ঠানে ১৫০ জন দুঃস্থ লোকের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। শিলচরের ছয়টি সরকারি বাংলা মাধ্যম স্কুলের মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বইপত্র খাতা কলম বিতরণ করা হয় এবং দু’টি স্কুলের ৪০ জন ছাত্রছাত্রীকে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। চলাফেরায় অসমর্থ্য একজনকে হুইলচেয়ারও তুলে দেওয়া হয়। এই কর্মসূচি শেষে স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবাইকে মুগ্ধ করে।
আগামীকাল শনিবার মূল অনুষ্ঠান শনিপূজা শুরু হবে সন্ধ্যা পাঁচ টায়। সাতটা থেকে শুরু হবে প্রসাদ বিতরণ। এবারও প্রায় ৫০০০ ভক্তবৃন্দের মধ্যে অন্নপ্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ঐদিনও থাকবে সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শিলচরবাসীর উপস্থিতি এবং সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।



