শিলচরে ভারত সেবাশ্রমের নয়া মন্দিরের শিলান্যাস স্বামী সাধনানন্দ মহারাজের

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ জানুয়ারি : শিলচর ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের শিলচর চান্দমারি রোডের ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের বহু আকাঙ্ক্ষিত শ্রীশ্রী গুরু মন্দির, শ্রীশ্রী শিব মন্দির ও শ্রীশ্রী কৃষ্ণ মন্দির নির্মাণ কাজের পূজার্চনার মধ্য দিয়ে বুধবার শিলান্যাস হয়েছে। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগঠক স্বামী সাধনানন্দজি মহারাজ, স্বামী গুণসিন্ধু মহারাজ এবং স্বামী প্রজ্ঞ্যানন্দ মহারাজ এই শুভকর্মে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। অনেক ভক্ত, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, যা অঞ্চলের সনাতনী সম্প্রদায়ের জন্য একটি মাইলফলক। চান্দমারি রোডের ভারত সেবাশ্রম সঙ্গের এই নতুন মন্দির বহু বছরের প্রত্যাশার ফল। পূজা-অর্চনা ও মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে শিলান্যাস সম্পন্ন হলে উপস্থিত সকলে আনন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী, বাস্তুকার চন্দন রায়, ডাঃ শিশির বিশ্বাস, প্রণবানন্দ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রিন্সিপাল ডাঃ পার্থ প্রদীপ অধিকারী, রূপম নন্দী পুরকায়স্থ, স্বর্ণালী চৌধুরী সহ আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি।

বক্তব্যে স্বামী সাধনানন্দজি মহারাজ বলেন, “বহু প্রতীক্ষার পর এই মন্দির স্থাপনের কাজ শুরু হতে চলেছে। এই মন্দির সমগ্র অঞ্চলের সনাতনীদের ধর্মীয় আস্থা ও বিশ্বাসের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হবে বলে আমি আশাবাদী।” তাঁর কথায় উপস্থিত সকলে উল্লাসে তালি দিয়ে সাড়া জানান। শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী বলেন, “ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের সাধু-সন্তদের ত্যাগ ও সেবামূলক কাজের স্মৃতি আমার মনে স্থান করে আছে। এই মন্দির নির্মাণে সকলেই এগিয়ে আসুন, যাতে এটি দ্রুত সম্পন্ন হয়।” তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতার আহ্বান জানান। রূপম নন্দী পুরকায়স্থ তাঁর বক্তব্যে জানান, “ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের মন্দির ও সাধু-সন্ন্যাসীরা যুগ-যুগ ধরে নিঃস্বার্থভাবে দুঃস্থ ও পীড়িতদের সেবা করে আসছেন।

গুরু মহারাজ স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ পৃথিবীর আধ্যাত্মিক ইতিহাসের এক উজ্বল নক্ষত্র। এই মন্দির নির্মাণ হলে শিলচরে একটি আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হবে। স্বর্ণালী চৌধুরী বলেন, “আমার মা ভারত সেবাশ্রমের ভক্ত ছিলেন। সেখান থেকেই আমি আজও এই মন্দিরে আসি এবং এখানে এসে শান্তি অনুভব করি।” তাঁর কথায় অনেকে মাথা নেড়ে সম্মতি জানান।এই মন্দির নির্মাণের মাধ্যমে শিলচরের সনাতনী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবন আরও সমৃদ্ধ হবে বলে সকলেই বিশ্বাস করছেন। ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের এই উদ্যোগ অঞ্চলের সনাতনী সমাজের জন্য এক নতুন আলোর পথ প্রশস্ত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *