বরাক তরঙ্গ, ৩১ মার্চ : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জনগণের মৌলিক দাবি ও জলন্ত ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করে কাছাড় জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে জোরকদমে প্রচার শুরু করেছে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দল। দলের মনোনীত প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ ও ঘরে ঘরে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। আজকেও প্রচার অভিযানে সামিল হয়ে প্রার্থীরা সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দলের বক্তব্য তুলে ধরেন। শিলচর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী ভবতোষ চক্রবর্তী শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বেকারত্ব, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এসইউসিআই (সি)-কে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
ধলাই বিধানসভা কেন্দ্রের মনোনীত প্রার্থী গৌরচন্দ্র দাস ধোয়ারবন্দের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে প্রচার চালান। কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সমস্যার সমাধানে আপসহীন সংগ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি ভোটারদের কাছে ব্যাখ্যা করেন। বড়খলা কেন্দ্রের প্রার্থী শম্পা দে চাতলা এলাকার বিভিন্ন স্থানে নারী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা পরিষেবার উন্নয়ন ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে বামপন্থী লড়াইকে আরও জোরালো করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। সোনাই কেন্দ্রের প্রার্থী অঞ্জন কুমার চন্দ নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে যান। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং জনবিরোধী সরকারি নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দেন তিনি। উদারবন্দ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দিলীপ কুমার রী চা বাগান এলাকায় নিবিড় প্রচার চালান। বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার চা শ্রমিকদের সম মজুরি প্রদান সহ অন্যান্য ন্যায্য দাবি বিধানসভায় জোরালোভাবে তুলে ধরতে তিনি ভবিষ্যতে লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন।
দলের কাছাড় জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য শ্যামদেও কুর্মী বলেন, বিজেপি দলের অপশাসনে জনগণের অবস্থা বেহাল। জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিন অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, নারী নির্যাতন ইত্যাদির বিরুদ্ধে জনগণ যখনই প্রতিবাদে সোচ্চার হচ্ছেন তখনই সরকার স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে আন্দোলন দমন করেছে। অথচ বিরোধী দলগুলো প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার পরিবর্তে ভোট জয়ের শুধু কৌশল অবলম্বন করছে। তিনি বলেন আসলে বিজেপি ও কংগ্রেস দলের স্লোগান আলাদা হলেও তাদের নীতিগত অবস্থান একই। নির্বাচনের আগে দল বদলের ঘটনায় তাদের চরিত্র ফুটে উঠেছে। উভয় দলের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে পুঁজিপতিদের স্বার্থে কাজ করা এবং শোষণ মূলক ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করা। এসইউসিআই কমিউনিস্ট দলের মনোনীত প্রার্থীরা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তা আরও শক্তিশালী করতে এবং জনগণের ন্যায় সঙ্গত দাবি বিধানসভায় জোরালোভাবে তুলে ধরতে নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছেন। আগামী দিনগুলোতে এই প্রচার অভিযান আরও ত্বরান্বিত করা হবে তিনি জানান।



