মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৩ নভেম্বর : রাজ্যে দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়া আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার (ASF)–এর কারণে রাজ্যের পশুপালন ও পশু চিকিৎসা বিভাগ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই সংক্রমণ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় শূকর খামারিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ।দিসপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পশুপালন ও পশু চিকিৎসা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল জানান, ভয়াবহ এই রোগ ইতিমধ্যে রাজ্যের পশুপালন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। মন্ত্রী জানান, বিশেষ করে ধেমাজী, ডিব্রুগড়, জোড়হাট, কামরূপসহ মোট সাতটি জেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রমণের হার।
মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, রাজ্যের অর্থনীতি ও বহু পরিবারের জীবিকা শূকর পালনের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে। সংক্রমণ যাতে আর ছড়িয়ে না পড়ে, সেই লক্ষ্য নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
ASF এর বিস্তার রোধে রাজ্য সরকার শূকরের রপ্তানি ও আমদানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিভাগীয় মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল জানান বর্তমানে রাজ্যে শূকরের চাহিদা বেশি থাকায় বিভিন্ন সময় হরিয়ানা, পঞ্জাব, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে শূকর আমদানি করা হয়। তবে মন্ত্রী স্বীকার করেন যে এতদিন প্রবেশপথে পরীক্ষার সময় পজিটিভ ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্ট স্তরে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন এখন থেকে বাইরের রাজ্য থেকে আসা প্রতিটি শূকরবাহী গাড়ির ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হবে। প্রবেশমুখে বাধ্যতামূলকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে, এবং কোনো পজিটিভ কেস পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে।মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল আরও জানান, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, ভেটেরিনারি সার্ভিস, স্বাস্থ্য দপ্তর সহ বহু বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহায়তার বিষয়েও সরকার আলোচনা চালাচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। রাষ্ট্রব্যাপী এই পরিস্থিতিতে পশুপালন বিভাগের সতর্কবার্তা শূকর পালকদের যেন যথাসম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে, অসুস্থ পশু পৃথক রাখতে এবং সন্দেহজনক মৃত্যুর ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে নিকটবর্তী পশু চিকিৎসা কেন্দ্রে জানাতে বলা হয়েছে।



