ভাবীকালের সপ্তরাজ রঙ্গ উৎসবে লক্ষণীয় ভিড়

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৬ মার্চ: সমাপ্ত হল ভাবীকাল আয়োজিত সপ্তরাজ রঙ্গ উৎসবের। এই পঞ্চম জাতীয় নাট্য উৎসবের উদ্বোধন হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তিনদিনে মোট ছয়টি নাটক মঞ্চস্থ হয়। প্রথম দিনেই দর্শকদের মোহিত করে প্রান্তিক বহরমপুর। ঝুলন ভট্টাচার্য একক অভিনয়ে মঞ্চস্থ করে স্ত্রীর ই-পত্র।‌ এই নাটকই উৎসবের রঙ-রূপ স্থির করে দেয়। ওই ভালো লাগায় ভরসা করেই পরবর্তী দু’দিনও সন্ধ্যা হতেই গান্ধীভবনে ছুটে আসেন নাট্যপ্রেমী জনতা। এক উৎসবে বাংলা, অসমিয়া, মারাঠি, হিন্দি নাটক উপভোগের সুযোগ হাতছাড়া হতে দেননি তাঁরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও ছিল নজরকাড়া। সংক্ষিপ্ত, ছিমছাম কিন্তু মূল্যবান।  পৌরোহিত্য করেন ভাবীকালের সভাপতি রঞ্জন দাস। উৎসবের উদ্বোধন করেন বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. পরিতোষচন্দ্র দত্ত। বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাময়িক প্রসঙ্গের সত্বাধিকারী তৈমুর রাজা চৌধুরী। এই অনুষ্ঠানে নাট্যজন সম্মাননা অর্পণ করা হয় বিশিষ্ট অভিনেতা নাট্যকর্মী বিজয় খানকে। মঞ্চে ছিলেন ভাবীকালের মুখ্য উপদেষ্টা অধ্যাপক দেবাশিস ভট্টাচার্য, উৎসব কমিটির সভাপতি শান্তনু দাস, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ দিলীপ নন্দী, প্রসেনজিৎ দাস, ড. মুরলী বাসা প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভাবীকালের ডিরেক্টর শান্তনু পাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সায়ন্তনী পাল এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অধ্যাপক দেবাশিস ভট্টাচার্য।

দ্বিতীয় দিন ১ মার্চ পরিবেশিত হয় অসমিয়া নাটক ‘কাঠফোলা’। বিশ্বনাথ চারিয়ালির বর্নামের এই নাটক পরিচালনায় ছিলেন কুশল ডেকা। সেদিন তিনটি নাটক প্রদর্শিত হয়।

দ্বিতীয় নাটক‌ ছিল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফর্মিং আর্ট (থিয়েটার) বিভাগের ‘বালি আউর শম্ভু’।

তৃতীয় নাটক ‘লাওথাওথি ভিকরালা’ পরিবেশন করেন মুম্বাইর গিরিশ ক্রিয়েশন অভিনেতারা।

২ মার্চ তৃতীয় দিনে দুটি নাটক পরিবেশন করা হয়। কলকাতার সাইন থিয়েটারের শুভদীপ ও গ্রেসি দর্শকদের সারাক্ষণ আকৃষ্ট করে রাখেন। বাদল  সরকারের ‘বাঘ’ নাটক করে তাঁরা নাট্যকারকে শতবর্ষের শ্রদ্ধা জানান।

উৎসবের শেষ নাটক ‘ছায়া কুসুম’ মঞ্চস্থ করে রেস, পয়লাপুল। রচনা ও পরিচালন- ইন্দ্রনীল দে।

উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে মুখ্য আহ্বায়ক গৌরব রবিদাস এবং ভাবীকালের পরিচালক শান্তনু পাল  উৎসবে আগত প্রত্যেক দর্শকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আমন্ত্রিত প্রত্যেকটি নাট্যদল ও কলাকুশলীদের, সমস্ত সংবাদমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ভারত সরকারের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়, সমস্ত পৃষ্ঠপোষক এবং ভাবীকালের ছাত্রছাত্রী, শিল্পী, সদস্য-সদস্যাদের। তাঁরা বলেন, সকলের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সার্বিক সহযোগিতায় এবারের সপ্তরাজ রঙ্গ উৎসব  সফলতা লাভ করল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *