সোনাবাড়িঘাট হলি লাইফ স্কুল কবীন্দ্রবাবুর শিক্ষাদরদি মনোভাবের সাক্ষ্য আজও বহন করছে

আশু চৌধুরী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৮ জানুয়ারি : রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও সব দলের নেতাকে সম্মান করা, সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাস রাখা—এই গুণাবলির জন্যই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রয়াত কবীন্দ্র পুরকায়স্থ স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত শিক্ষাপ্রেমী ও অসাম্প্রদায়িক হৃদয়ের মানুষ, যাঁর কাছে শিক্ষার উন্নয়নে জাত-ধর্ম বা রাজনৈতিক মতাদর্শ কোনও অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি। এর এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সোনাবাড়িঘাট এলাকার মালিকবিহীন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘হলি লাইফ স্কুল’। প্রায় একশো শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত এই অঞ্চলের স্কুলটির উন্নয়নের জন্য কবীন্দ্র পুরকায়স্থ ২০১০-১১ অর্থবছরে সাংসদ তহবিল থেকে দু’লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই স্কুলের তৎকালীন অধ্যক্ষ ছিলেন প্রয়াত দুর্গেশ পুরকায়স্থ, যিনি একজন খাঁটি বামপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুর্গেশ পুরকায়স্থ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য আবদার রেখেছিলেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ধর্মীয় বিভাজন—এই দুইয়ের কোনও কিছুই কবীন্দ্র পুরকায়স্থের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। তাঁর কাছে মুখ্য ছিল শিক্ষা ও শিক্ষিত সমাজ গড়ে তোলা। এই অর্থ বরাদ্দের ফলেই স্কুলের আরসিসি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়, যা আজও তাঁর শিক্ষাদরদি মনোভাবের সাক্ষ্য বহন করছে।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর প্রয়াণে বৃহস্পতিবার সকালে হলি লাইফ স্কুলে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মস্তর আলি লস্কর ছাত্রছাত্রীদের সামনে কবীন্দ্র পুরকায়স্থের শিক্ষা-সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষ চলে যায়, কিন্তু স্মৃতি থেকে যায়। কবীন্দ্রবাবু শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাপ্রেমী মানুষ। শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি এই স্কুলে অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন। যতদিন এই প্রতিষ্ঠান থাকবে, ততদিন তাঁর স্মৃতিও জড়িয়ে থাকবে। শোকসভায় প্রয়াত কবীন্দ্র পুরকায়স্থের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শোকের আবহে বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *