৯ জানুয়ারি : ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে ফক্স নিউজ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ও বিক্ষোভকারীরাও রয়েছেন। বিক্ষোভের সঙ্গে মিল রেখে ইরানের রাজধানী তেহরান ছাড়াও কোম, ইসফাহান, বন্দর আব্বাস ও বোজনুর্দ শহরে ব্যাপক আন্দোলন দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসফাহানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)’ ভবনে বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরাচ্ছেন। তবে দেশটিতে ইন্টারনেট ও সংবাদমাধ্যমের ওপর কড়াকড়ি থাকায় ভিডিওটির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটলে ইরানকে ‘খুব কঠোর’ জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ৪৫ ছাড়িয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাসের শেল ও অন্যান্য কৌশল ব্যবহার করছে, যা শহরজুড়ে সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি করেছে।
এ দিকে, ইরানের শেষ শাহ শাসকের ছেলে রেজা পেহলেভির আহ্বানে বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ। এ সময় তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। দেশটির বিরোধী দলীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
রাজধানী তেহরানে পুলিশের মোটরসাইকেল ছাড়াও ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলায় নিহত হওয়া ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের কুদস ফোর্সের প্রাক্তন প্রধান কাসেম সোলাইমানির ছবি সম্বলিত বিশাল একটি বিলবোর্ডে আগুন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবিতেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে।
এমন বিক্ষোভের মুখে ইরানে ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। যদিও দেশটির সরকার এ নিয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি।
খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



