বরাক তরঙ্গ, ১০ এপ্রিল : ভোটগ্রহণের পরই কুনকী চৌধুরী এবং তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। পানবাজার থানায় অসম জাতীয় পরিষদের প্রার্থী কুনকী চৌধুরী এবং তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ইউনিটের সদস্যদের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভোটের দিন নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এই মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রার্থী নিজেই।
সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে কুনকী লিখেছেন, “আমার এবং আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া টিমের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। সেই কারণে গভীর রাতে পুলিশ আমাদের সহকর্মীদের আটক করেছে। আমি আমার বক্তব্য পুলিশের সামনে পেশ করার জন্য বর্তমানে থানায় অপেক্ষা করছি, কারণ আইন অনুযায়ী রাতে মহিলাদের বয়ান নেওয়া হয় না। তবে একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা নির্বাচন কমিশনের কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করিনি। শুরু থেকেই আমরা সমস্ত নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে মেনে চলেছি। শাসক দল আমাদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন দেখে ভীত হয়ে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে।”
ভিডিওতে কুনকী আরও বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে আমরা কিছু নিয়ম ভঙ্গ করেছি। কিন্তু আমরা সবাই দেখেছি বিজেপি সরকার কতটা নিয়ম মেনে চলে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনও আমি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে সমস্ত র্যালি বাতিল করে একাই গিয়েছিলাম। ভোটের দিনও আমরা সব নিয়ম মেনে চলেছি। কোনো প্রমাণ ছাড়াই আমাদের ভয় দেখানোর জন্যই এসব করা হচ্ছে। আসলে তারা ভয় পেয়েছে বলেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।”
উল্লেখ্য, কুনকী চৌধুরী এবারের অসম বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী। মধ্য গুয়াহাটি কেন্দ্রে বিজেপির প্রবীণ নেতা বিজয় গুপ্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন তিনি। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তিনি আলোচনায় আসেন। মধ্য গুয়াহাটিতে এক হিন্দিভাষী বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে কুনকীর মতো নবপ্রজন্মের প্রতিনিধির প্রার্থী হওয়া সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে যেদিন মুখ্যমন্ত্রী কুনকীর মা ও পরিবারের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ তুলে সমালোচনা করেন, সেদিন থেকেই তাঁকে নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ে। সামাজিক মাধ্যমেও অনেককে তাঁর সমর্থনে কথা বলতে দেখা যায়। রাজনীতিতে নবীন হলেও কুনকী কিছুটা হলেও বিজয় গুপ্তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হয়েছেন। এখন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়াকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।



