মেঘালয়ে সহিংসতাগ্রস্ত দুই জেলায় আংশিক শিথিল কারফিউ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৩ মার্চ : মেঘালয়ের সহিংসতাপ্রবণ দুই জেলায় শুক্রবার কারফিউ আংশিক শিথিল করেছে প্রশাসন, যাতে বাসিন্দারা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে পারেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম গারো হিলস জেলায় সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী পূর্ব গারো হিলস জেলায় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করার নির্দেশ দেন জেলা উপায়ুক্ত আরপি মারাক।

পশ্চিম গারো হিলস জেলার সদর শহর তুরায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় সেখানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
পশ্চিম গারো হিলসের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিভোর আগরওয়াল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সংস্থাকে জানান, “তুরার পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বৃহস্পতিবারও বিকেল ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়েছিল, যাতে মানুষ খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেন।”

পূর্ব গারো হিলস জেলাতেও সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করে বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া হয়।
এদিকে, তুরায় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় মেঘালয় পুলিশ ইতিমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পশ্চিম গারো হিলসের জেলা পুলিশ প্রধান আব্রাহাম টি সাংমা জানান, “এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।” তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।

মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা বৃহস্পতিবার তুরা সফর করে সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি জেলা প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বাসিন্দাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, “তুরার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেছি। ধ্বংসের পরিমাণ দেখে সত্যিই হৃদয়বিদারক লেগেছে। বহু ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গারো হিলস স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে অ-গারো সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলাকালীন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় কারফিউ জারি করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *