পাণ্ডুলিপি বিষয়ক একদিবসীয় কার্যশালা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে

Spread the news

পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১১ মার্চ : বুধবার, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাণ্ডুলিপি বিষয়ক একদিবসীয় কার্যশালা সম্পন্ন হলো। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়,শিলচরের জ্ঞান-ভারতম্ ক্লাস্টার কেন্দ্র , ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা কেন্দ্র এবং সংস্কৃত বিভাগের মিলিত তত্ত্বাবধানে এই কার্যশালাটি আয়োজিত হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও বৈদিক মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুভসূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য আবদুল রজাক, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা কেন্দ্রের নির্দেশক গঙ্গাভূষণ এম. মোলাঙ্কল, IQAC এর নির্দেশক পীয়ুষ পাণ্ডে, রবীন্দ্রনাথ টেগোর স্কুল অফ ইন্ডিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজেস অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ এর সংকায়াধ্যক্ষ ননীকুমার সিংহ, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অর্জুন দেব সেন শর্মা, সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ শান্তি পোখরেল। উত্তরীয় প্রদানের মাধ্যমে অতিথিদের বরণ করে নেওয়া হয়। এই  কার্যশালার সংযোজক রূপে উপস্থিত ছিলেন, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান-ভারতম্ ক্লাস্টার কেন্দ্রের নির্দেশক ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ শর্মা। তিনি অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং এই কার্যশালার উদ্দেশ্য কথন করেন। একই সাথে জ্ঞান ভারতম্ কেন্দ্রের বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন। জ্ঞান ভারতম্ এর ৫টি মুখ্য বিন্দু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি তিনি পাণ্ডুলিপির অনুবাদ, সংরক্ষণ, অন্যান্য ক্লাস্টার কেন্দ্রের গঠন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার উপর জোর দেন। ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা কেন্দ্রের নির্দেশক গঙ্গাভূষণ এম. মোলাঙ্কল সংস্কৃত ভাষার ঐতিহ্য ও প্রাসঙ্গিকতার বিষয়ে বলেন। ভারত সরকারের আনুকূল্যে পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে এসেছে।

সংকায়াধ্যক্ষ ননী কুমার সিংহ ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গরূপে পাণ্ডুলিপিগুলির প্রাচীনত্ব এবং মণিপুরী লিপির বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। IQAC এর নির্দেশক পীয়ুষ পাণ্ডে জ্ঞান ভারতম্ এবং জ্ঞান পরম্পরা উভয় কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে ভবিষ্যতে আরও কর্মশালা আয়োজনের আবেদন রাখেন। সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ শান্তি পোখরেল ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরায় পাণ্ডুলিপির গুরুত্ব ও তার যথাযথ সংরক্ষণের উপর জোর দেন। অনুষ্ঠানশেষে উপস্থিত অতিথিদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংস্কৃত বিভাগের অতিথি অধ্যাপক কল্লোল রায়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরে শৈক্ষণিক সত্রের আরম্ভ হয়। প্রথম সত্রের বক্তা ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অর্জুন দেব সেন শর্মা। তিনি পাণ্ডুলিপির তালিকাভুক্তীকরণ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। ভারতবর্ষের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাণ্ডুলিপির পঞ্জীকরণ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে পাণ্ডুলিপির তালিকাভুক্তীকরণ ও সংরক্ষণের বিষয়টি তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী ভারতে পাণ্ডুলিপি সংক্রান্ত বিষয়গুলি তিনি তুলে ধরেন। দ্বিতীয় সত্রের বক্তা ছিলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক বুবুল শর্মা। তিনি প্রাচীন বাংলা লিপিতে প্রাপ্ত কিছু পাণ্ডুলিপির প্রদর্শন করেন। বাংলা পাণ্ডুলিপির বিভিন্ন সময়কাল, লেখার উপকরণ, লেখনশৈলী, লিপিকার ও গ্রন্থকার, পুষ্পিকা, কীটপতঙ্গের হাত থেকে পাণ্ডুলিপিকে রক্ষা করতে প্রাকৃতিক ও জৈবিক উপকরণ ইত্যাদি বিষয়ে তিনি আলোচনা করেন। তৃতীয় সত্রের বক্তা রূপে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞান-ভারতম্ ক্লাস্টার কেন্দ্রের নির্দেশক ও সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক গোবিন্দ শর্মা। তিনি পাণ্ডুলিপির মেটা ডাটা তৈরী করার পদ্ধতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন। কোনও পাণ্ডুলিপির মেটা ডাটা প্রস্তুতীকরণের সময় ক্লাস্টারের নাম, গ্রন্থ নাম, গ্রন্থ পরিচয়, বিষয়, গ্রন্থকার, ভাষা, লিপি, টিকা, পুষ্পিকা ইত্যাদির যথাযথ জ্ঞান আবশ্যক হয়ে থাকে। এই বিষয়গুলি তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। চতুর্থ সত্রের বক্তা ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক অমলেন্দু চক্রবর্তী। তিনি ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানের লিপি এবং তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলা, দেবনাগরী, তিব্বতী, কন্নড়, নেওয়ারি ইত্যাদি লিপির প্রসঙ্গে তিনি বিস্তৃত বক্তব্য রাখেন।

পাণ্ডুলিপিবিষয়ক এই একদিনের কার্যশালায় সংস্কৃত, হিন্দি, বাংলা ও ভাষাতত্ত্ব বিভাগ থেকে প্রায় ৪০ জন ছাত্রছাত্রী যোগদান করেছিলেন। অন্যান্য বিভাগ থেকেও অধ্যাপক অধ্যাপিকা গণ উপস্থিত হয়েছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন সংস্কৃত বিভাগের গবেষক বিক্রম বিশ্বাস। কার্যশালা টির সমাপন সত্রে অংশগ্রহণকারীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। বন্দে মাতরম্ সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে এই একদিবসীয় কার্যশালার সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *