বরাক তরঙ্গ, ১৯ জানুয়ারি : গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাকক্ষে দিনব্যাপী “বরাক উপত্যকায় উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা” এ বিষয়ে একদিনের সচেতনতা কর্মসূচি হিসেবে এমএসএমই-এর ডিজাইন ও ইনোভেশন স্কিম নিয়ে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিটি গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়, শিলচরের ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং ও প্লেসমেন্ট সেল কর্তৃক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এনআইটি), শিলচরের সহযোগিতায় আয়োজিত হয়। ভারতের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ মন্ত্রক (MSME), ভারত সরকার দ্বারা পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত ছিল। গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের উৎসাহী শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এই অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন এম এস এম ই শিলচর শাখার ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফ্যাসিলিটেশন অফিসার স্বপনীল ভি. দেশমুখ, এনআইটি শিলচরের রিসার্চ এবং কনসালটেন্সির ডীন অধ্যাপক আর এইচ লস্কর। এনআইটি শিলচরের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এনবিডি চৌধুরী, এনআইটি মিজোরামের সহকারী অধ্যাপক অনাঘা ভট্টাচার্য, গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয় এর কেরিয়ার কাউন্সিলিং ও প্লেসমেন্ট সেল এর ডিরেক্টর জয়দীপ ভট্টাচার্য।
শ্রী স্বপনীল ভি. দেশমুখ এমএসএমই-এর গুরুত্ব এবং উদ্যোক্তা হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। অধ্যাপক লস্কর, যিনি গুরুচরণ কলেজের প্রাক্তনী, গবেষণা ও নকশা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে এই অঞ্চলে উদ্যোক্তা গড়ে তুলতে গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয় ও এনআইটি, শিলচরের একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। অধ্যাপক চৌধুরী বর্তমান সময়ে উদ্যোক্তা উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার উপর আলোকপাত করেন।
ড. অনাঘা ভট্টাচার্য এমএসএমই-এর জন্য নকশাগত দিকগুলির অপরিহার্যতা তুলে ধরেন। শুরুতেই জয়দীপ ভট্টাচার্য গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত সকল সম্মানিত অতিথিকে স্বাগত জানান। তিনি বরাক উপত্যকায় এমএসএমই শুরু করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন এবং বলেন যে বরাক উপত্যকায় প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে, যেগুলির সর্বোত্তম ব্যবহার করা প্রয়োজন।
কারিগরি অধিবেশনগুলি পরিচালনা করেন স্বপনীল ভি দেশমুখ, যেখানে ব্যবসায়িক ধারণা বিকাশ এবং এমএসএমই-এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনে পণ্য উন্নয়ন ও বিপণন সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেন অধ্যাপক এনবিডি চৌধুরী। তৃতীয় অধিবেশনটি পরিচালনা করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. প্রদীপ্ত দাস, যেখানে তিনি ধারণা থেকে ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। চতুর্থ অধিবেশন পরিচালনা করেন অনাঘা ভট্টাচার্য। বিষয় ছিল নতুন ব্যবসায়িক মডেল এ বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার প্রয়োজনীয়তা। প্রদীপ পুরকায়স্থের মাধ্যমে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদর্শিত হয়।
এই কর্মসূচির সমন্বয় করেন ড. তপন প্রধান ও এনআইটির ড. বিশ্বরূপ গাঙ্গুলি। সঙ্গে ছিলেন শৈক্ষিক নিবন্ধক ড. অভিজিৎ নাথ ও জয়দীপ ভট্টাচার্য। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সার্টিফিকেট বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।



