কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হওয়ার শলা কৃষ্ণনের______
বরাক তরঙ্গ, ২০ জানুয়ারি : উৎসাহ আর আবেগের ছোঁয়ায় সম্পন্ন হল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩ তম সমাবর্তনের দ্বিতীয় দিন। মঙ্গলবার কলা ও বাণিজ্য শাখার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক স্তরে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য মোট ১৭ জন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। পাশাপাশি চারজনকে অনুদানভিত্তিক পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। সব মিলিয়ে এদিন প্রায় ৩,৩০০ জন শিক্ষার্থীকে স্নাতক স্তরের আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
সমাবর্তনের দ্বিতীয় দিনের প্রধান অতিথি ছিলেন অশোক লিল্যান্ডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কৃষ্ণন সদাগোপন। তিনি স্নাতক উত্তীর্ণদের উদ্দেশে বলেন, পেশাগত জীবনে টেকসই শক্তির ব্যবহার এবং প্রকৃতি ও সংস্কৃতির মধ্যে সমন্বয় খুঁজে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি এও বলেন, প্রতিটি পেশাই মর্যাদাপূর্ণ, তবে দলগত কাজ ও আত্মনির্ভরশীলতা জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হওয়া উচিত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এটি জ্ঞান অর্জনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলেও তা কখনও প্রজ্ঞা দিতে পারে না। তাই এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হওয়ারও শলা দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার চিফ মার্শাল অরূপ রাহা জীবনে চরিত্র, সংহতি, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও সততার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি এও বলেন, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, সত্যিকার অর্থে ভালো মানুষ হওয়াই এর অন্তর্নিহিত শক্তি। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করে যাওয়ারও পরামর্শ দেন।
উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ বলেন, শিক্ষা কেবল জ্ঞান অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা চরিত্রের রূপান্তর ও বিকাশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, আজ সমগ্র বিশ্ব ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে। আর অন্যতম কারণ যুবশক্তি। এই যুবশক্তির ওপর ভিত্তি করেই ভারত বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।
এদিন অন্যদের মধ্যে মঞ্চে ছিলেন ডিফু ক্যাম্পাসের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক শিবাশিস বিশ্বাস, নিবন্ধক প্রদোষ কিরণ নাথ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সুপ্রবীর দত্তরায় সহ বিভিন্ন স্কুলের ডিনরা। প্রসঙ্গত, তিনদিনের ২৩ তম সমাবর্তন শেষ হচ্ছে বুধবার। এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান মনোজ মুকুন্দ নারাভানে।



