শিলচরে নাইজেরিয়ান নাগরিক গ্রেফতার, অবৈধভাবে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে আরও তিনজন আটক

Spread the news

রূপক চক্রবর্তী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ মার্চ : শিলচরে নাইজেরিয়ান নাগরিক গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে কাছাড় জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ব্রাঞ্চ) রজতকুমার পাল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, কাছাড় পুলিশ ও আসাম রাইফেলসের যৌথ অভিযানে বুধবার সকালে শিলচরের শিলংপট্টি এলাকা থেকে এমেকা আসেডোকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধৃত ব্যক্তির কাছ থেকে কোনও বৈধ নথিপত্র পাওয়া যায়নি, ফলে তার ভারতে অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রজতকুমার পাল আরও জানান, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে যে, শহরের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আশ্রয় দিয়েছিল। সেই সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করে, যাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিককে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ধৃতদের মধ্যে মিজোরামের এক মহিলাও রয়েছেন।

তিনি বলেন, এমেকা আসেডোর ভারতে আসার উদ্দেশ্য, তার গতিবিধি এবং এর সঙ্গে কোনও বৃহত্তর চক্র জড়িত রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় গভীর তদন্ত চলছে এবং আগামী দিনে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।

এ দিকে, খবর অনুযায়ী, নাইজেরিয়ান যুবক সহ তার সঙ্গে আটক অন্যরা যে বয়ান দিয়েছে, সে অনুযায়ী ধৃত মিজো মহিলা ঘনিয়ালার দম্পতির পরিচিত। নাইজেরিয়ান যুবক মঙ্গলবার দিল্লি থেকে আসার পর মিজো মহিলা তাকে নিয়ে যায় ঘনিয়ালার দম্পতির বাড়িতে। এরপর বুধবার সকালে তারা শহরে বের হলে ধরা পড়ে যায়। যদিও পুলিশের অনুমান, দিল্লি থেকে আসার কথা বলা হলেও নাইজেরিয়ান যুবক খুব সম্ভবত মায়াম্মার সীমান্ত দিয়ে প্রথমে অবৈধভাবে মিজোরামে অনুপ্রবেশ করেছিল। এরপর মিজো মহিলার সঙ্গে আসে শিলচরে। বর্তমানে তাদের জোর জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। আটক  মিজো মহিলা আইজলের বাসিন্দা মালসোয়াম ডাংগি (৪৬), আর শিলচর ঘনিয়ালার দম্পতি টিংকু হোসেন বড়ভূইয়া (৪১) ও তার পত্নী রুমিনা বেগম বড়ভূইয়া (৩৮)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *