দিলোয়ার বড়ভূইয়া, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ২৫ মার্চ : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ধলাই বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমশ বাড়ছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর কংগ্রেস শিবিরে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধলাইয়ে কংগ্রেস প্রার্থীর জয় এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা এমনই দাবি করেছেন নরসিংহপুর ব্লক কংগ্রেস সভাপতি রাজন পালিত।
বুধবার দক্ষিণ ধলাইয়ে এক নির্বাচনী সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র জমার পর থেকেই ধলাইয়ের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে কংগ্রেস প্রার্থীকে ঘিরে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে কংগ্রেসের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং পরিবর্তনের আশায় ভোট দিতে প্রস্তুত হচ্ছেন। তাঁর দাবি, এই জনসমর্থনের জোরেই এবার ধলাইয়ে কংগ্রেসের জয় নিশ্চিত।
রাজন পালিত অভিযোগ করেন, উপনির্বাচনের সময় প্রশাসনিক যন্ত্রের অপব্যবহার করে অল্প ব্যবধানে জয় পেয়েছিল বিজেপি প্রার্থী। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে এবং কংগ্রেস সংগঠন এখন অনেক বেশি শক্তিশালী ও সক্রিয়। দলীয় কর্মীরা গ্রামাঞ্চলে গিয়ে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন এবং সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা তুলে ধরছেন।
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেস আমলে শুরু হওয়া বহু উন্নয়ন প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে বিজেপি নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে দেখাচ্ছে। বাস্তবে উন্নয়নের বদলে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিই বিজেপির মূল লক্ষ্য বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জনজীবনের নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন রাজন পালিত। তাঁর মতে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বেকারত্ব, ডিজেল-পেট্রোল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট—এই সব গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে সরকারের কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেই। গ্রামীণ মানুষ এসব সমস্যায় জর্জরিত হলেও বিজেপি তা উপেক্ষা করে রাজনৈতিক কৌশলেই ব্যস্ত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিন জেলা বিজেপি সভাপতি রুপম সাহার এক মন্তব্যেরও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিয়ে করা ওই মন্তব্যকে ‘দুঃখজনক ও বিভাজনমূলক’ আখ্যা দিয়ে রাজন পালিত বলেন, যদি সত্যিই এমন ধারণা থাকে, তবে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চা বিলুপ্ত করা উচিত। অন্যথায় এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ধলাইয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, কংগ্রেসের ভেতরে কোনও অন্তর্কলহ বা লবিবাজি নেই। সকল নেতা-কর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রার্থীর জয়ের লক্ষ্যে কাজ করছেন। অন্যদিকে, ধলাই বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট আকার নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কংগ্রেস প্রার্থী ধ্রুব জ্যোতি পুরকায়স্থ একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর বাবা দু’বারের বিধায়ক হিসেবে এলাকায় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ধ্রুব জ্যোতিও দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত রয়েছেন এবং তফসিলি জাতি পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন রাজন পালিত।
সবশেষে রাজন পালিত বলেন, ধলাইয়ের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে। দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান ও প্রকৃত উন্নয়নের স্বার্থে ভোটাররা কংগ্রেসের পক্ষেই রায় দেবেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে ধলাইয়ে কংগ্রেস প্রার্থীর জয় অবশ্যম্ভাবী বলেও তিনি দাবি করেন।



