মায়ানমারের ‘স্ক্যাম ফ্যাক্টরি’র ১১ হোতাকে মৃত্যুদণ্ড! প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ চিনের

৩০ জানুয়ারি : সাইবার প্রতারণার জাল বিস্তার এবং নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যার দায়ে নজিরবিহীন কঠোর শাস্তি দিল চিন। মায়ানমারের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় কুখ্যাত স্ক্যাম সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আরও ২৩ জন অপরাধীকে পাঁচ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে চীনা আদালত।

চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, দণ্ডিতরা ইচ্ছাকৃত নরহত্যা, শারীরিক নির্যাতন, বেআইনি আটক, বড় আকারের প্রতারণা এবং অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিল। চীনের সুপ্রিম পিপলস কোর্ট তাদের অপরাধকে “অত্যন্ত জঘন্য” (Especially Vile) বলে অভিহিত করেছে এবং জানিয়েছে, এই অপরাধের ভয়াবহতা মৃত্যুদণ্ডকেই অনিবার্য করে তুলেছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কুখ্যাত “মিং পরিবার” এর সদস্যরাও রয়েছে। উত্তর মায়ানমারের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণকারী তথাকথিত “চার পরিবার”-এর অন্যতম এই মিং পরিবার। তাদের মাফিয়া সিন্ডিকেটটি একটি বহু বিলিয়ন ডলারের অপরাধ সাম্রাজ্য চালাত। অভিযোগ রয়েছে, তাদের কার্যকলাপের কারণে ১৪ জন চিনা নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।

বেইজিং প্রতিজ্ঞা করেছে যে, মায়ানমার, থাইল্যান্ড এবং লাওসের সমন্বয়ে গঠিত “গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল” থেকে পরিচালিত অপরাধ চক্রগুলোকে তারা নির্মূল করবে। এই লক্ষ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যৌথ অভিযান চালাচ্ছে চিন।

সিসিটিভির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত মায়ানমার কর্তৃপক্ষ ৫৩,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজন প্রতারককে চীনের হাতে তুলে দিয়েছে। গত নভেম্বরেই মায়ানমারের কোকাং অঞ্চলে স্ক্যাম অপারেশনের সঙ্গে যুক্ত ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল চীন।

জাতিসংঘের মতে, বিশ্বজুড়ে কয়েক লক্ষ মানুষ এই ধরনের স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে চিনের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধীদের কাছে এক বড় সতর্কবার্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *