বরাক তরঙ্গ, ১২ ফেব্রুয়ারি : ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে আর ঠিক এই মুহূর্তে নিজ কেন্দ্র ঢেলে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন ধলাইর বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস। বৃহস্পতিবার ধলাই-নরসিংপুর ব্লকের বিভিন্ন জিপিতে ‘মূখ্যমন্ত্রী পকি পথ নির্মাণ প্রকল্প’ এর অধীনে দশটি পূর্ত সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন বিধায়ক নীহার। উক্ত প্রকল্প গুলি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে সর্বমোট ১১ কোটি ৯৭ লক্ষ পাঁচ হাজার টাকা। এদিন শিলান্যাস করা প্রকল্প গুলির মধ্যে রয়েছে – ৯৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ধলাই শ্রীলঙ্কা থেকে সপ্তগ্রাম বর্ডার পর্যন্ত পূর্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, ৯২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩০৬ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন নারায়ণ শাহ মোকাম থেকে ইঅ্যান্ডডি বাঁধ পর্যন্ত পূর্ত সড়ক নির্মাণ, ৯৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৩০৬ নং জাতীয় সড়ক থেকে ধলাই লায়লাপুর সড়ক পর্যন্ত পূর্ত সড়ক নির্মাণ, ৯১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শেওরারতল পিডব্লিউডি থেকে তিনঘরী পর্যন্ত পূর্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প। এছাড়াও রয়েছে ২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ধনীপুর থেকে শেওরারতল পর্যন্ত পূর্ত সড়কের নির্মাণ কাজ, ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে শেরখান ইন.ই.সি রোড থেকে রুয়ারপুঞ্জি পূর্ত সড়ক নির্মাণ, ৯৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জামালপুর পিএমসিএসপি.ওয়াই রোড থেকে নারাইনপুর কাছাড়িঘাট পর্যন্ত পূর্ত সড়ক নির্মাণ, ৯৯.৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মথুরাপুর জিপির টিলানগর রিকিয়াসন বস্তিতে পূর্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, ১ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দেবীপুর জ্যোতিষ দাসের বাড়ি থেকে রুকনি বাজার পর্যন্ত পূর্ত সড়ক নির্মাণ ও ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা ব্যয়ে দেবীপুরে ভূবনডহর রোড থেকে রিকিয়াসন বস্তি পর্যন্ত পূর্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প।
শিলান্যাস অনুষ্ঠান গুলিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস বলেন, কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি। অসহায় মানুষের খোঁজ নেওয়া ও তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন। বিধায়ক বলেন, উপ-নির্বাচনে জয়লাভের পর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তার অনুরোধেই মুখ্যমন্ত্রী ধলাই জন্য পূর্ত বিভাগ থেকে পঞ্চাশ কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। তিনি এক্ষেত্রে বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৌশিক রাইয়ের বিশেষ সহযোগিতা ছিল বলে মন্তব্য করেন। ধলাইকে সমজেলায় উন্নীত করার জন্য মূখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিধায়ক। শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্যের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ধলাইয়ে যে উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে উঠেছে, তার পেছনে সাংসদের বড় ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতেও তাঁর পথ অনুসরণ করে ধলাইয়ের মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বিধায়ক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজেপি নেতা সঞ্জয় কৈরি, সীতাংশু দাস সহ অন্যান্য বিজেপি নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। এদিনের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি ধলাই-নরসিংহপুর মণ্ডল সভাপতি সঞ্জয় কৈরী, ধলাই বিধানসভার বিজেপির নির্বাচনী কনভেনর সীতাংশু দাস, ধলাই-নরসিংহপুর ব্লক আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সভাপতি নির্মলকান্তি দাশ, বিজেপি এস সি মোর্চার আসাম প্রদেশ কার্য্যনির্বাহক সদস্য বিজয় রায়, পূর্ত বিভাগের কনিষ্ঠ বাস্তুকার ঋতুরাজ দাস, বিজেপি ধলাই-নরসিংপুর মণ্ডল সহ-সভাপতি খাইরুল আমিন লস্কর, সাধারণ সম্পাদক পৃথীশচন্দ্র দাস, সম্পাদক পূর্ণেন্দু বর্মণ, কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ, বিজেপির ধলাই কেন্দ্রে সামাজিক মাধ্যম কোষের আহ্বায়ক কুটন দে, ওবিসি মোর্চার পালংঘাট মণ্ডল প্রভারী প্রীতম ঘোষ, সপ্তগ্রাম জিপি সভাপতি আনোয়ার হোসেন লস্কর, শেওরারতল জিপি সভানেত্রী রাখি বর্মণ, প্রাক্তন জিপি সভাপতি সুনেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ, আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সদস্য মল্লিকা কৈরি, নিয়তি বর্মণ, প্রভাত বৈষ্ণব, বিজেপি কর্মকর্তা পরিমল দাস, আনোয়ারুল হক লস্কর, শিবা শুক্লবৈদ্য, নবকুমার জিডুং সহ বিভিন্ন জিপির পঞ্চায়েত প্রতিনিধি সহ দলীয় কর্মকর্তাবৃন্দ।



