গ্রামীণ অর্থনীতি মজবুত করতে দুধ, মাংস, ডিম উৎপাদন নিয়ে দিসপুরে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের বৈঠক

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৯ ফেব্রুয়ারি : মুখ্যমন্ত্রী সমগ্র গ্রাম্য উন্নয়ন যোজনার অধীনে পশুপালন খাতে গতি আনতে সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ। অসমে দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন জোরদারে সরকারের সক্রিয় উদ্যোগ। AMMEMS-এর ষষ্ঠ গভর্নিং বডি বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী করে তুলতে রাজ্য সরকার যে সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তারই প্রতিফলন দেখা গেল অসম মিল্ক, মিট অ্যান্ড এগ মিশন সোসাইটি (AMMEMS)-এর ৬ষ্ঠ গভর্নিং বডি বৈঠকে। সোমবার দিসপুরের সি-ব্লক, দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের নিজ দপ্তরের কনফারেন্স হলে মুখ্যমন্ত্রী সমগ্র গ্রাম্য উন্নয়ন যোজনা (MMS-CIMSGUY)-এর অধীন মেগা মিশন সোসাইটির আওতাভুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মিশনের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কাব্যশ্রী মহান্ত, সচিব, মৎস্য বিভাগ; পাঞ্চালী কাকতি, সচিব, পশুপালন ও ভেটেরিনারি বিভাগ ও পরিচালক, দুগ্ধ উন্নয়ন; পুষ্পাঞ্জলি দাস, সচিব, পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগ; ড. জয়ন্তকুমার গোস্বামী, পরিচালক, পশুপালন ও ভেটেরিনারি বিভাগ; গায়ত্রী বরি, সচিব, রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ; গায়ত্রী হ্যালিঙ্গে, যুগ্ম সচিব, অর্থ বিভাগ সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগীয় আধিকারিকবৃন্দ। বৈঠকে মিশনের কার্যকর বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক, মাঠপর্যায়ে প্রকল্প রূপায়ণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং তা অতিক্রমের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষভাবে দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনের পরিকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদকদের প্রশিক্ষণ, বাজার সংযোগ, আর্থিক সহায়তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, “অসমের গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে পশুপালন ও মৎস্যখাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। AMMEMS-এর মাধ্যমে আমরা কেবল উৎপাদন বৃদ্ধির কথাই ভাবছি না, বরং গ্রামীণ মানুষের জন্য টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতাই এই মিশনের সাফল্যের চাবিকাঠি। রাজ্য সরকার চায়, গ্রামীণ যুবক-যুবতীরা আধুনিক পদ্ধতিতে পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠুক। বৈঠকের শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুততর করা হবে এবং নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী সমগ্র গ্রাম্য উন্নয়ন যোজনার অধীন এই মেগা মিশনের মাধ্যমে অসমের গ্রামীণ এলাকায় আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। AMMEMS-এর মতো উদ্যোগ ভবিষ্যতে অসমকে দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *