মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ অক্টোবর : শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ, উৎসাহ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই এবার বিদায়ের পালা। আগামীকাল বুধবার দশমীর প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পাথারকান্দিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। উৎসবের শেষ পর্ব যাতে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যে বিসর্জন ঘাটের সার্বিক প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা খতিয়ে দেখলেন রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী তথা পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল।মঙ্গলবার মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল দলীয় নেতা-কর্মী এবং পাথারকান্দি পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে লঙ্গাই নদীর তীরবর্তী নির্ধারিত দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন ঘাট পরিদর্শন করেন। বিশেষ করে থানা রোড সংলগ্ন পাথারকান্দির বিসর্জন ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পাথারকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি), পুলিশ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিক এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিদর্শনকালে বিসর্জন ঘাটের বর্তমান পরিস্থিতি, প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার পথ, নদীর তীরবর্তী পরিবেশ, বিসর্জন প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি বিসর্জনের দিন বিপুল সংখ্যক ভক্ত, দর্শনার্থী ও পূজা উদ্যোক্তাদের সমাগমের কথা মাথায় রেখে কীভাবে গোটা প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী।উৎসবের শেষ দিনে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
বিসর্জন ঘাটে আগত সাধারণ মানুষ, মহিলা, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জনের সময় ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টিও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয়দের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে গোটা বিসর্জন পর্বকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়।মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের এই সরেজমিন পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিসর্জনের আগেই সম্ভাব্য সমস্যা ও অসুবিধাগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। কারণ দুর্গাপূজার শেষ পর্ব প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরে প্রতিবছরই বিভিন্ন পূজা কমিটি, ভক্ত ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। ফলে এই সময়ে প্রশাসনিক সমন্বয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই বিষয়টিকে সামনে রেখেই পুলিশ প্রশাসন, দলীয় নেতৃত্ব এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে বিসর্জন ঘাটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল জানান শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য বার্তা বহন করে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ এই উৎসবে আনন্দে শামিল হন। তাই উৎসবের শেষ পর্ব প্রতিমা বিসর্জনও যেন একইভাবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বিঘ্নে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়, সে ব্যাপারে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উৎসবের আনন্দ ও সামাজিক সম্প্রীতি অটুট রেখে প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী আরও জানান, প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পাশাপাশি পূজা কমিটি, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সাধারণ মানুষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রত্যেকের সহযোগিতা, সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বিসর্জন পর্ব নিশ্চিত করা সম্ভব।




