
বরাক তরঙ্গ, ২৬ জানুয়ারি, সোমবার,
প্রজাতন্ত্র দিবস এলেই দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। রাজপথে কুচকাওয়াজ, সরকারি ভবনে পতাকা উত্তোলন, দেশাত্মবোধক গান ও বক্তৃতায় মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। কিন্তু এই আড়ম্বরের ভিড়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন ক্রমশ গভীর হচ্ছে—প্রজাতন্ত্র দিবসে আমরা কি সত্যিই সংবিধান রক্ষার শপথ নিচ্ছি? ভারতের সংবিধান শুধু রাষ্ট্র পরিচালনার আইন নয়, এটি একটি জাতির নৈতিক ও গণতান্ত্রিক চুক্তি। স্বাধীনতা, সাম্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সামাজিক ন্যায়—এই চার স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে আমাদের প্রজাতন্ত্র। অথচ বাস্তবে আমরা প্রায়ই দেখি, সংবিধানের এই মৌলিক আদর্শ উপেক্ষিত হচ্ছে। রাজনৈতিক লাভের জন্য সংবিধানের ব্যাখ্যা বদলানো হচ্ছে, নাগরিক অধিকারের ওপর অঘোষিত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, আর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
আমরা পতাকা তুলছি, কিন্তু সংবিধানের মূল্যবোধ তুলে ধরছি না। আমরা জাতীয় ঐক্যের কথা বলছি, কিন্তু সমাজে বিভাজন বাড়ছে। আমরা গণতন্ত্রের গৌরবগাথা শোনাচ্ছি, কিন্তু গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হচ্ছে। আর এই প্রেক্ষিতে সংবিধান রক্ষার প্রশ্ন জোরদার হচ্ছে। তবে সংবিধান রক্ষা করা কোনও একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। গণতন্ত্র টিকে থাকে জনগণের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের উপর। তাই আজ প্রয়োজন নতুন করে দৃঢ় শপথ নেওয়া। সংবিধানকে রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে তার আদর্শকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার শপথ। সংবিধান রক্ষার দৃঢ় শপথই হোক প্রজাতন্ত্র দিবসের সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার।



