চুরাইবাড়িতে লরি বোঝাই ২৪২৩ বোতল কফ সিরাপ উদ্ধার

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২ জানুয়ারি : ফলের আড়ালে মাদক পাচার, চুরাইবাড়িতে পুলিশের জালে ধরা পড়ল লরি ও দুই পাচারকারী। সীমান্ত পথে নেশা কারবারিদের বড়সড় পরিকল্পনায় এবার জল ঢেলে দিল চুরাইবাড়ি পুলিশ। নিয়মিত তল্লাশির আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর মাদক চোরাচালানের ছক ভেঙে দিয়ে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় কফ সিরাপসহ একটি লরি আটক করল পুলিশ। এই অভিযানে শুধু মাদক উদ্ধারই নয়, বরং সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় একটি বৃহৎ চোরাচালান চক্রের পর্দাফাঁসের ইঙ্গিত মিলেছে।

শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি বিধানসভার বাজারিছড়া থানাধীন অসম ত্রিপুরা সীমান্তের চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টে পুলিশের তৎপরতায় এই বড়সড় সাফল্য মিলেছে। নিয়মিত নাকা তল্লাশির সময় বিপুল পরিমাণে নেশাজাতীয় কফ সিরাপ বোঝাই একটি লরি আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ কফ সিরাপের কালোবাজারি মূল্য আনুমানিক ২৪ লক্ষাধিক টাকা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। শুক্রবার সকাল নাগাদ এএস-২৮-এসি-২০৪০ নম্বরের একটি ছয় চাকার ফল বোঝাই লরি চুরাইবাড়ি ওয়াচ পোস্টের নাকা পয়েন্টে পৌঁছায়। সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে গাড়িটিকে থামিয়ে নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি শুরু করেন ওয়াচ পোস্টের নবাগত ইনচার্জ নিরঞ্জন দাস। তাঁর নেতৃত্বে পুলিশ দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ির ভিতরে তল্লাশি চালায়।তল্লাশির একপর্যায়ে ফল ও সবজির আড়ালে রাখা একাধিক ট্রের ভিতর থেকে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় এস্কাফ কফ সিরাপ উদ্ধার হয়। পুলিশ মোট ২৪২৩ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাপ বাজেয়াপ্ত করে। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ নেশা সামগ্রী সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালানের একটি বড় নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় লরির চালক ও সহচালককে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। ধৃতদের নাম যথাক্রমে নুরুল হক ও রাজু আহমেদ। তাদের বাড়ি বরপেটা জেলার কালাগাছি ও খোয়াগাছি এলাকায় বলে জানা গেছে।ঘটনার খবর পেয়ে পাথারকান্দি সমজেলার পুলিশ সুপার অনির্বাণ শর্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো অভিযানের তদারকি করেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, আটক লরিটি অসমের বরপেটা থেকে যাত্রা শুরু করে ত্রিপুরায় প্রবেশ করে আগরতলায় পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি সংগঠিত মাদক পাচার চক্রের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনের আওতায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের খোঁজে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া নেশা সামগ্রীর কালোবাজারি মূল্য আনুমানিক ২৪ লক্ষাধিক টাকা বলে তিনি নিশ্চিত করেন। পুলিশ সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, ধৃতদের শনিবার জেলা সিজেএম আদালতে সোপর্দ করা হবে। এই সফল অভিযানের ফলে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রুখতে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা আরও একবার প্রমাণিত হলো বলে মনে করছেন সচেতন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *