ঝড়-শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড দক্ষিণ ধলাই,  ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৬ মার্চ : বসন্তেই প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডব। চৈত্রের শুরুতেই তিন দফার ঝড় ও প্রবল শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল দক্ষিণ ধলাইয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার রাতের সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে বহু পরিবার। শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় শত শত ঘরের টিনের চাল ঝাঁজরা হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে, সুযোগ বুঝে টিনের কালোবাজারির অভিযোগও উঠেছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ প্রথম দফার ঝড় ও প্রবল শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের এই তাণ্ডবে দক্ষিণ ধলাইয়ের ইসলামাবাদ, সপ্তগ্রাম, লোকনাথপুর, আর্যানপুর, বনগ্রাম, ভাগা, জয়ধনপুর ও রাজঘাট সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। রাত সাড়ে দশটা নাগাদ দ্বিতীয় দফা এবং তার আধ ঘণ্টার ব্যবধানে তৃতীয় দফার শিলাবৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ঝড়ে বহু গাছপালা উপড়ে পড়ার পাশাপাশি অনেক কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ ভূপতিত হয়েছে। পাকা ঘরের জানালার কাজ ভেঙে গিয়েছে।
বড় আকারের শিলার আঘাতে শত শত ঘরের টিনের চাল ফুটো হয়ে চালনির মতো অবস্থা হয়েছে। প্রথম দফার ঝড়ে চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় পরবর্তী দুই দফার বৃষ্টিতে ঘরের ভেতরেই আক্ষরিক অর্থে ‘হাবুডুবু’ খেতে হয় বাসিন্দাদের। আসবাবপত্র থেকে শুরু করে মজুত করা খাদ্যশস্য সবই ভিজে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। দফায় দফায় শিলাবৃষ্টিতে শত শত বিঘা কৃষিভূমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বসন্তের এই সময়ে আম, জাম ও কাঁঠাল গাছে যে মুকুল এসেছিল, শিলার আঘাতে তা ঝরে গিয়ে কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মতে, এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

সোমবার সকাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ভিড় জমান স্থানীয় টিনের দোকানগুলোতে। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় অনেক দোকানে লম্বা লাইন লক্ষ্য করা গেছে। ভিড় সামাল দিতে টোকেন প্রথা চালু করতে হয়েছে বিক্রেতাদের। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই দুর্যোগকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে টিন বিক্রি করছেন। নিরুপায় হয়ে মানুষ অতিরিক্ত দাম দিয়েই টিন কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

ঝড়ের দাপটে বিদ্যুৎ পরিষেবাও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক লাইনের ওপর বাঁশঝাড় ও গাছ ভেঙে পড়ায় ছিঁড়ে গেছে তার। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। মেরামতির কাজ চললেও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *