বরাক তরঙ্গ, ৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার,
কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভার ব্যস্ততম কালাইন বাজার সংলগ্ন লারাং নদী আজ এক গভীর সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে। যে নদীর তীরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মূর্তি বিসর্জনের কথা ছিল, সেই স্থানই আজ পরিণত হয়েছে উন্মুক্ত ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। বর্জ্য আবর্জনা, নোংরা, এমনকি মল-মূত্র ফেলায় নদীর পাড় ও সংলগ্ন এলাকা কার্যত এক অস্বাস্থ্যকর আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে।
এলাকাটি কালাইন বাজারের মতো ব্যস্ত জনপদের লাগোয়া। চারপাশে ঘনবসতি, দোকানপাট, যাতায়াতের প্রধান সড়ক—সব মিলিয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকেন্দ্র। অথচ নিকাশি ব্যবস্থার চরম অভাব এবং প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতিতে এখানে প্রতিদিন অবাধে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। ফলস্বরূপ, দূর্গন্ধে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, পরিবেশের ভারসাম্য ভেঙে পড়ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, বৃহত্তর এলাকার জলনিকাশির একমাত্র নির্ভরযোগ্য নালাটি বর্জ্যে ভরে বন্ধ হয়ে পড়েছে। বর্ষা নামলেই এই বন্ধ নালার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। কৃত্রিম বন্যার মতো পরিস্থিতিতে ঘরবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী থেকে দিনমজুর—সবাইকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে, কোথায় জনপ্রতিনিধিরা? কোথায় প্রশাসনের তৎপরতা? একটি জনবহুল বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ নদীপাড়ে এভাবে অব্যবস্থাপনা চলতে পারে কীভাবে? নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন, কঠোর নজরদারি এবং জরিমানার ব্যবস্থা না থাকলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিবেশ রক্ষা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, নাগরিকদেরও সচেতনতা জরুরি। কিন্তু প্রশাসন যদি ন্যূনতম অবকাঠামোই গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সচেতনতার প্রত্যাশা কতটা বাস্তবসম্মত?
আজ প্রয়োজন অবিলম্বে নালা পরিষ্কার, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা, এবং নদীপাড়কে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা। অন্যথায় লারাং নদী কেবল দূষণের শিকারই হবে না, বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকট ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।



