লঙ্কা-ময়নারবন্দ নতুন রেলপথ, শীঘ্রই কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে পেশ হবে কণাদকে আশ্বাস রেলমন্ত্রীর

Spread the news

নতুন স্টেশন নির্মাণ, শিলচর-দেওঘর ও দৈনিক শিলচর-ধর্মনগর ট্রেন চালুর দাবিতে রেলমন্ত্রী সকাশে কণাদ

বরাক তরঙ্গ, ১২ মার্চ : লঙ্কা-ময়নারবন্দ নতুন রেলপথ প্রকল্পের প্রস্তাব শীঘ্রই পেশ করা কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে। ক্যাবিনেট ক্লিয়ারেন্স হলেই রূপায়ণ হবে প্রকল্পটি। বৃহস্পতি বার নয়া দিল্লিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করলে রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থকে এমনটাই আশ্বাস দেন তিনি। ইদানিংকালে বরাক উপত্যকায় রেল যোগাযোগে দৈনিক শিলচর রঙ্গিয়া এক্সপ্রেস চালু, একাধিক ট্রেনকে এল এইচ বিতে রূপান্তর সহ বিভিন্ন স্টেশনে বিভিন্ন ট্রেনে স্টপেজ চালু সহ বেশকিছু সমস্যার সমাধান হওয়ায় রেলমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
  
এদিন রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বিগত দিনে পেশ করা বিভিন্ন দাবি পূরণে ফের একবার আলোকপাত করেন সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ। এদিন রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় শিলচর শহর সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত একটি স্টেশন নির্মাণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন সাংসদ কণাদ। তিনি বলেন, শিলচর রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত পরিসর নেই। ফলে স্টেশনকে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ স্টেশনটিতে নিত্যদিন বাড়ছে যাত্রী সংখ্যা, কিন্তু  ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না।  এমন প্রেক্ষাপটে শিলচর শহর সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত স্টেশন নির্মাণ অতি আবশ্যক হয়ে পড়েছে। শহর সংলগ্ন ছোট দুধপাতিল নেতাজিনগর এলাকায় নতুন স্টেশন নির্মাণ হলে বরাক উপত্যকায় রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হবে। এপ্রসঙ্গে সাংসদ কণাদ পুরকায়স্থ উল্লেখ করেন যে শিলচর শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে অরুণাচল জংশন এবং ময়নারবন্দ রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে রয়েছে ছোট দুধপাতিল এলাকার নেতাজি নগর গ্রাম। আরও জানা গেছে যে লঙ্কাকে ময়নারবন্দের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য একটি নতুন রেলওয়ে লাইন পাইপলাইনে রয়েছে। নেতাজি নগরে একটি নতুন স্টেশন হলেই বর্তমান স্টেশনের ওপর চাপ কমবে এবং রেল যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।

এছাড়াও রেলমন্ত্রীর কাছে শিলচর- ধর্মনগর ট্রেনকে দৈনিক যাতায়াত ও শিলচর – দেওঘর ট্রেন চালুর বিষয়টি তুলে ধরেন সাংসদ কণাদ। তিনি বলেন, ৫৫৬৭৭ নম্বর শিলচর-ধর্মনগর নামে একটি ট্রেন, যা সপ্তাহে দুবার চলাচল করে, বরাক উপত্যকা এবং উত্তর ত্রিপুরা উভয় জায়গাতেই ব্যাপক জনসাধারণের চাহিদা থাকায় ট্রেনটি দৈনিক চালু করার আবশ্যক।এখানে উল্লেখ্য আগে এটি একটি দৈনিক ট্রেন ছিল কিন্তু কোভিডের পরে ট্রেনটি সপ্তাহে দুবার চলাচল শুরু হয়।

শিলচর-দেওঘর ট্রেন চালুর বিষয়ে ফের একবার রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংসদ। তিনি বলেন, বিশেষ করে ঠাকুর অনুকুল চন্দ্রের ভক্তদের অন্যতম দাবি হল শিলচর – দেওঘর ট্রেনের। পূণ্যার্থী যারা বরাক উপত্যকা এবং সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেনে যাতায়াত করেন। শিলচর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন দেওঘরে। তাই শিলচর থেকে দেওঘর পর্যন্ত একটি ট্রেন চালুর বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন সাংসদ। তিনি মনে করেন যে  জনস্বার্থ  সম্পর্কিত এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে  এতদঅঞ্চলের মানুষ জন্য ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন। পাশাপাশি এতদঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।রেলমন্ত্রী সাংসদের জনসুবিধার্তে উত্থাপিত এই দাবি গুলি শীঘ্রই পূরনের আশ্বাস দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *