বরাক তরঙ্গ, ৩০ নভেম্বর : পানীয়জলের ন্যায্য দাবিতে প্রমীলা বাহিনীর নেতৃত্বে সড়ক অবরোধ। জানা গেছে, উত্তর ত্রিপুরায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয়জলের চরম সংকটে ভুগছিলেন লালছড়া এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ, সপ্তাহের পর সপ্তাহ কেটে গেলেও সঠিকভাবে পাইপলাইনে জল পৌঁছায় না তাদের ঘরে। নিত্যদিনের ব্যবহার তো দূরের কথা, রান্না, পান করা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে জল সংগ্রহ করতেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছিল স্থানীয়দের। আর এই অসহনীয় পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে শেষমেশ রোববার সকালে ধর্মনগর–কদমতলা সড়ক অবরোধে বসেন ক্ষুব্ধ মানুষজন।
শুরুর পর থেকেই বিক্ষোভের চিত্র ছিল নজরকাড়া। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রমীলা বাহিনীর সদস্যাদের সক্রিয় উপস্থিতি এদিন বিশেষভাবে চোখে পড়ে। হাতে প্ল্যাকার্ড, মুখে স্লোগান—নিয়মিত পানীয় জলের যোগান নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষুব্ধ মহিলাদের দৃপ্ত অবস্থান পুরো এলাকা জুড়ে এক বিরাট বার্তা দেয়।
অবরোধের ফলে সড়কের দুই প্রান্তে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে থমকে যায়। বহু যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকেন। জরুরি সেবা বহনকারী কয়েকটি গাড়িও বিপাকে পড়ে। ক্রমশ পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে থাকায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। পরে আসেন স্থানীয় চেয়ারম্যান মিহিররঞ্জন নাথও।
চেয়ারম্যান মিহিররঞ্জন নাথ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ বিস্তারিতভাবে শোনেন। মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান—আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পাইপলাইনের সমস্যাটি মেরামত করা হবে। পাশাপাশি অবিলম্বে যাতে জলসংকটে মানুষকে কষ্ট পোহাতে না হয়, তার জন্য বাহনযোগে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা তিনি করে দেন।
চেয়ারম্যানের আশ্বাস ও তৎক্ষণাৎ উদ্যোগে আশ্বস্ত হন আন্দোলনকারীরা। প্রায় দু’ঘণ্টা পরে অবরোধ তুলে নেন তারা। তবে স্থানীয়দের সতর্ক বার্তা—এই প্রতিশ্রুতি যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূরণ না হয়, তারা আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
পানীয়জলের মতো মৌলিক চাহিদা ঘিরে এমন আন্দোলন প্রশাসনের প্রতি আবারও বড় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে—মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানুষকে রাস্তায় নামতে হবে কেন?



