সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক হওয়া উচিত: হৃষিকেশ গোস্বামী

Spread the news

গুয়াহাটিতে অসম বার্তাজীবী সংঘের সুবর্ণজয়ন্তী সমাপ্তি অনুষ্ঠান শুরু_____

বরাক তরঙ্গ, ৪ জানুয়ারি : সমাজের সব স্তরের মানুষের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নের জন্য নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে সেবা প্রদানকারী সাংবাদিকদের সমাজ সব সময়ই স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। গুয়াহাটির দিসপুরস্থিত লোক নির্মাণ বিভাগের প্রশিক্ষণ ও সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যের অন্যতম সাংবাদিক সংগঠন অসম বার্তাজীবী সংঘের সুবর্ণজয়ন্তী সমাপ্তি অনুষ্ঠান শুরু হল।
এই উপলক্ষে রবিবার প্রথম দিন ‘সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ ও তার সমাধান’ শীর্ষক আলোচনা সভার উদ্বোধন করে অসম শিশু সাহিত্য ন্যাসের সচিব হৃষিকেশ গোস্বামী বলেন, সাংবাদিকদের সমাজের বিবেক হওয়া উচিত। অসম বার্তাজীবী সংঘের সভাপতি মধুসূদন মেধির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা যদি সমাজের বিবেক হিসেবে ভূমিকা পালন না করেন, তবে শুধু সাংবাদিকদের জীবনেই নয়, সমাজ পরিচালনাতেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সংঘের সাধারণ সম্পাদক মুকুট রাজ শর্মার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দৈনিক জনমভূমি পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক সঞ্জীব কুমার ফুকন আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে বলেন, সমাজ ও জাতির নির্দিষ্ট প্রয়োজন থেকেই সংবাদগোষ্ঠীর জন্ম হয়েছে, সরকার সাংবাদিক বা সংবাদপত্র সৃষ্টি করেনি। তিনি আরও মন্তব্য করেন, অসমীয়া জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি সাংবাদিক ও সংবাদগোষ্ঠী এবং সঠিক সাংবাদিকতাই সঠিক জাতীয়তাবাদ গড়ে তুলতে পারে।
‘আমার অসম’ পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক গৌতম শর্মা বলেন, জোনাকি যুগ থেকে আজ পর্যন্ত অসমিয়া ভাষা রক্ষার জন্য সাংবাদিকরা নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সাংবাদিকদের নিজের শক্তি ও ভাল-মন্দ অনুধাবন করাই আজকের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি সব ক্ষেত্রের মতো সাংবাদিকতাতেও অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে এবং সততা ও নিরাপত্তার সংকট সাংবাদিকদের সামনে আরেক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এমজিএনরেগা শ্রমিকদের থেকেও কম বেতন পাওয়া সাংবাদিকরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে না পারেন, তবে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। সংবাদগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে কোনও সরকার টিকে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করে তিনি কোভিড মহামারির সময় সংবাদমাধ্যমকে সহায়তার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং স্পষ্ট করেন যে এর অর্থ সংবাদগোষ্ঠী সরকার দ্বারা পরিচালিত নয়।

সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার থাকা অসম বার্তাজীবী সংঘকে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। অনুষ্ঠানে লেখক-সাংবাদিক পরেশ বৈশ্য, অসম বার্তাজীবী সংঘের প্রাক্তন সভাপতি ও সর্ব ভারতীয় বার্তাজীবী মহাসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় উপ-সভাপতি ফণীধর দাস, দৈনিক অসম-এর জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জিতেন্দ্র কুমার চৌধুরী এবং সমাজকর্মী রাণা বশিষ্ঠ আলোচক হিসেবে অংশ নেন।

বিকেলে মধুসূদন মেধির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নবীন-প্রবীণ সহকর্মী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সংঘের প্রাক্তন সম্পাদক ভক্তি রায়। সর্ব ভারতীয় বার্তাজীবী মহাসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস, অসম বার্তাজীবী সংঘের উপ-সভাপতি অঞ্জন কুমার শর্মা, প্রদেশ কার্যনির্বাহক তথা প্রাক্তন সম্পাদক যতীন ভাগৱতী বক্তব্য রাখেন। বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা সংগঠনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি নিজ নিজ প্রতিভার প্রকাশ ঘটান।

অসম বার্তাজীবী সংঘের গৌরবময় সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সন্ধ্যায় পঞ্চাশটি প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। সকালে প্রতিনিধি নিবন্ধনের পর সংঘের সভাপতি মধুসূদন মেধি পতাকা উত্তোলন করেন এবং সাধারণ সম্পাদক মুকুট রাজ শর্মা স্মৃতিতর্পণ করেন।

আগামীকাল সকালে মুক্ত মঞ্চের সভার উদ্বোধন করবেন অসমিয়া প্রতিদিন পত্রিকার মুখ্য সহযোগী সম্পাদক অচ্যুতকুমার পাটওয়ারী। সর্ব ভারতীয় বার্তাজীবী মহাসঙ্ঘের কেন্দ্রীয় প্রধান সাধারণ সম্পাদক পরমানন্দ পাণ্ডে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সুবর্ণজয়ন্তীর স্মারক গ্রন্থ উন্মোচন করবেন নিউজ লাইভ-এর মুখ্য পরিচালন সম্পাদক সৈয়দ জারির হুসেইন। এছাড়াও তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের সঞ্চালক মানবেন্দ্র দেব রায়, নিয়মীয়া বার্তার সম্পাদক নরেশ কলিতা, ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের উত্তর-পূর্ব মণ্ডলের সহকারী মহা ব্যবস্থাপক সুজিত দে এবং অসমীয়া খবরের মুখ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানে অসম বার্তাজীবী সংঘের প্রাক্তন সভাপতি ও সম্পাদকদের পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট সাংবাদিককে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সন্ধ্যায় সমবেত প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *