৬ ফেব্রুয়ারি : ২০২৫ সালের বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল কি তবে খারিজ হতে চলেছে? রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্নই এখন তুঙ্গে। নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ভোটারদের সরাসরি ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সুরাজ’। বিহারে ফের নতুন করে নির্বাচন করানোর দাবিতে শীর্ষ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেছে তারা।
অভিযোগের তির কোথায়?
জন সুরাজ পার্টির অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এবং ভোট চলাকালীন সরকার ভোটারদের প্রভাবিত করতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার করেছে। পিটিশনে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
সরাসরি অর্থ সাহায্য (DBT): ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা’-র অধীনে প্রতি পরিবারের একজন মহিলাকে ১০,০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে সরকার। প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লক্ষ মহিলা ভোটারকে এভাবে ‘ঘুষ’ দিয়ে ভোট কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ। এবং জীবিকা (JEEVIKA) কর্মীদের ব্যবহার: ভোট চলাকালীন প্রায় ১.৮০ লক্ষ জীবিকা গোষ্ঠীভুক্ত মহিলাদের বুথে বুথে মোতায়েন করা হয়েছিল। জন সুরাজ-এর দাবি, এটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করার সুপরিকল্পিত চাল।
অ্যাডভোকেট আদিত্য সিংয়ের মাধ্যমে দায়ের করা এই আবেদনে জানানো হয়েছে, ভোট ঘোষণার পর এই ধরণের প্রকল্পের সুবিধাভোগী বাড়ানো এবং টাকা দেওয়া সংবিধানের ১৪, ২১, ১১২, ২০২ এবং ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। প্রশান্ত কিশোরের সাফ কথা, “হাজার হাজার দরিদ্র পরিবারকে ১০,০০০ টাকার বিনিময়ে কেনা হয়েছে, যা ডক্টর আম্বেদকরের গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।”
সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকা অনুযায়ী, শুক্রবার অর্থাৎ আজ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে।



