অন্য বিএলও দিয়ে ফর্ম–৭ দাখিল, হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি ম্যাসেজ পাওয়া জাবির হোসেনের

দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ৪ ফেব্রুয়ারি : ধলাই বিধানসভা এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় এক যুবক দাবি করেছেন, তাঁর অজ্ঞাতে নির্বাচন কমিশনের ফর্ম–৭ দাখিল করে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। হঠাৎ মোবাইলে নির্বাচন কমিশনের একটি বার্তা পাওয়ার পরই বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছেন যুব সমাজকর্মী জাবির হোসেন লস্কর। তিনি নরসিংহপুর তৃতীয় খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা এবং কাবুগঞ্জ লক্ষীচরণ এইচএস স্কুলের প্রাক্তন বড়বাবু প্রয়াত মনির উদ্দিন লস্করের পুত্র। জাবির জানান, ডেলিমিটেশনের পর তাঁদের পরিবার সোনাই বিধানসভা এলাকা থেকে ধলাই বিধানসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে তিনি ধলাই বিধানসভার অন্তর্গত ১২৫ নম্বর দুলাল রায় এলপি স্কুল ভোটকেন্দ্রের ভোটার।

জাবির হোসেন অভিযোগ করেন, তাঁর অজ্ঞাতে কেউ নির্বাচন কমিশনের ফর্ম–৭ দাখিল করে তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করেছে। মোবাইলে পাওয়া এসএমএসে উল্লেখিত রেফারেন্স নম্বর দিয়ে অনলাইনে খোঁজ নিয়ে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন বলে জানান। তবে এ পর্যন্ত তিনি এ সংক্রান্ত কোনও লিখিত নোটিশ পাননি বলে দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ তোলেন যে, সানি পাল নামে এক বিএলও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে তিনি জানতে পেরেছেন। যদিও সানি পাল তাঁর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএলও নন; তাঁদের এলাকার বিএলও হলেন যতীন সিনহা। এই প্রসঙ্গে জাবিরের প্রশ্ন, “আমার নাম কর্তনের আবেদন হলে তা সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলওর মাধ্যমেই হওয়ার কথা।” এছাড়া তিনি গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন, বহিরাগতদের মাধ্যমে প্রকৃত ভারতীয় ভোটারদের হেনস্তা করার একটি চক্রান্ত চলছে।
জাবির হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে গৌহাটি হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর দাবি, শুধু তাঁর ক্ষেত্রেই নয়, ধলাই বিধানসভা এলাকায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ভোটারের নাম ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি ডেলিমিটেশন-পরবর্তী সময়ে সোনাই বিধানসভা এলাকা থেকেও ২৫ থেকে ৩০ হাজার ভোটারের নাম কর্তনের আশঙ্কার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *