বরাক তরঙ্গ, ৫ জানুয়ারি, সোমবার,
সমাজে মাদক ও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ ব্যবসা আজ এক গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা হলো—কিছু ক্ষেত্রে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ এই অপকর্মগুলির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠে আসছে। এর ফলে গোটা সম্প্রদায়ই প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তৈরি হচ্ছে সামাজিক অবিশ্বাস ও নেতিবাচক ধারণা।
এখানে স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন কোনও সম্প্রদায় জন্মগতভাবে অপরাধপ্রবণ নয়। অপরাধ করে ব্যক্তি, কিন্তু তার দায় গিয়ে পড়ে গোটা সমাজের উপর। তাই অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে প্রয়োজন গভীর আত্মসমালোচনা। কেন কিছু যুবক মাদক পাচার, চোরাচালান বা অবৈধ ব্যবসার পথে পা বাড়াচ্ছে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হবে।
বেকারত্ব, শিক্ষার অভাব, দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভ, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি—এই সবই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। কিন্তু কারণ জানলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সমাজের ভেতর থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি। যুব সমাজকে সঠিক দিশা দেখানো, শিক্ষার প্রসার, নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করা অত্যন্ত জরুরি। অপরাধীকে আড়াল করা নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করাই সমাজের সুস্থতার পথ।
সমাজ ও সম্প্রদায়কে রক্ষা করার দায়িত্ব কারও একার নয়—এটি সম্মিলিত দায়িত্ব। আজ যদি আমরা নীরব থাকি, আত্মসমালোচনা এড়িয়ে যাই, তবে আগামী প্রজন্মকে আমরা এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেব। তাই এখনই সময়, ভুল স্বীকার করে সংশোধনের পথে হাঁটার, উত্তরণের রাস্তা খোঁজার।
মাদক ও অবৈধ ব্যবসামুক্ত সমাজ গড়তে হলে প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে নিজেদের ভিতর থেকেই। আত্মশুদ্ধিই হতে পারে প্রকৃত পরিবর্তনের সূচনা।



