বরাক তরঙ্গ, ২ মার্চ, সোমবার,
বরাক উপত্যকায় সড়ক দুর্ঘটনা এখন এক ভয়াবহ দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কিংবা গুরুতর আহত হওয়ার খবর সামনে আসছে। এই ধারাবাহিক দুর্ঘটনা শুধু পরিসংখ্যানের সংখ্যা বাড়াচ্ছে না, বরং অসংখ্য পরিবারকে চিরতরে শোকের অন্ধকারে নিমজ্জিত করছে। প্রশ্ন উঠছে—এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে? এবং এর সমাধানই বা কোথায়? সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে বেশীর ভাগ জড়িত উঠতি যুবকদের দ্বি চক্র যান ও টিপার।
এ ছাড়াও অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, হেলমেট বা সিটবেল্ট ব্যবহার না করা—এই ধরনের অসচেতন আচরণ প্রতিনিয়ত প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ ছাড়াও সড়কের পাশে বা সড়কের উপর দাঁড় করিয়ে রাখা বাহনও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেক ক্ষেত্রেই ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কঠোরতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ও দৃঢ় ব্যবস্থা না নেওয়ায় এক ধরনের দায়মুক্তির সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে শুধু প্রশাসনকে দোষারোপ করলেই চলবে না, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি পরিহার করা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। একইসঙ্গে প্রশাসনের উচিত নিয়মিত সড়ক পরিদর্শন, দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা এবং কঠোর ট্রাফিক আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
সড়ক দুর্ঘটনা কোনও অনিবার্য নিয়তি নয়; এটি প্রতিরোধযোগ্য। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, দায়িত্বশীল প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিক সমাজ। বরাকের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন। এখন সময় এসেছে কথার বদলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।



