নেশা মুক্তি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তরের পরিদর্শন

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৭ মার্চ : মানুষকে নেশার অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে এনে নতুন জীবনের আলো দেখানোর লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে চলেছে দক্ষিণ শিলচরের অন্যতম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থা। শুক্রবার নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থার শিলকুড়ি কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও নেশা মুক্তি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন কাছাড়  District Social Welfare Officer শোভনা দেবী এবং সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তা সুশ্মিতা মোদক।
পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা সংস্থার বিভিন্ন প্রশাসনিক নথিপত্র ও কার্যক্রম খতিয়ে দেখেন এবং নেশা মুক্তি ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ ও পরিষেবা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি কেন্দ্রটি আরও সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেন।

এদিন নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক দিলু দাস সংগঠনের পক্ষে কাছাড় জেলা সমাজকল্যাণ বিভাগের নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত জেলা সমাজকল্যাণ অফিসার  শ্রীমতি শোভনা দেবী এবং সমাজকল্যাণ বিভাগের কর্মকর্তা সুস্মিতা মোদক কে উত্তরীয় ও শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করে সস্মান প্রদান করেন। একইসঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে সরকারি সকল নিয়মনীতি মেনে নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থা নেশা মুক্তি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পরিদর্শনের সময় সংগঠনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর রুহিত দাস, কাউন্সিলর রাজদেব দাস, সেন্টার ইনচার্জ আমিত দেববর্মা সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে দিলু দাস জানান, সমাজে নেশার কবলে পড়ে বহু তরুণ-তরুণী ও পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। তাদের নতুন জীবনের সুযোগ করে দেওয়াই এই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য। তাই আবাসিকদের চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি তাদের মানসিক পুনর্বাসন ও দক্ষতা বিকাশের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ মূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে তারা সুস্থ হয়ে সমাজে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে নেতাজি ছাত্র যুব সংস্থা পরিচালিত “দীপ নেশা মুক্তি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র” আসামের বরাক উপত্যকা সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্য ত্রিপুরার যুব সমাজে নেশামুক্ত জীবন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সম্প্রতি আসাম সরকারের Social Justice & Empowerment বিভাগের নতুন SOP অনুযায়ী কেন্দ্রটির নাম সংগঠনের নামে পরিবর্তন করা হয়েছে। পাশাপাশি গত সপ্তাহে কেন্দ্রটি Assam Clinical Establishment Act-এর অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন লাভ করেছে, যা কেন্দ্রটির কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল ও আইনসম্মতভাবে পরিচালনার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে এবং এই কেন্দ্রকে একটি আদর্শ পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে তারা নিরন্তর কাজ করে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *