বরাক তরঙ্গ, ২ মার্চ : সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসা পরিষেবার কথা মাথায় রেখে সর্বোদয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন এই অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত বিল্ডার মানবেন্দ্র নারায়ণ ধর। তাঁর প্রয়াত পিতা মনীন্দ্র নারায়ণ ধরের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতেই এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
মালুগ্রামের মধুরামুখ এলাকায় অবস্থিত সর্বোদয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রায় ১৫০০ বর্গফুট আয়তনের জি প্লাস টু ভবন নির্মাণ করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরের কাজ শুরু হবে। পরবর্তী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রথম তলার এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রবিবার মালুগ্রাম মধুরামুখের ‘লাখুদা ভবনে’ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সর্বোদয় ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী শেখর পাল চৌধুরী এই তথ্য জানান। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দাতা মানবেন্দ্র নারায়ণ ধর, ট্রাস্টের কার্যকরী সভাপতি ভাস্কর দত্ত, কর্মকর্তা শান্তনু দাস, কোষাধ্যক্ষ অশোককুমার দেব, রাজ্য পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অতনু চৌধুরী, রামেন্দ্র ভট্টাচার্য এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অনিতা বোস।
এদিন মানবেন্দ্র নারায়ণ ধর জানান, তিনি শুধু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন নির্মাণই নয়, একটি অ্যাম্বুলেন্সও প্রদান করবেন। ভবিষ্যতে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বল্পমূল্যে প্যাথোলজি পরীক্ষা, রক্তপরীক্ষা, এক্স-রে সহ প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা উপলব্ধ থাকবে। পাশাপাশি ডায়াগনস্টিক সুবিধার সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ও শববাহী যান পরিষেবার ব্যবস্থাও রাখা হবে।
নিজের এই উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মানবেন্দ্র নারায়ণ ধর বলেন, ১৯৯২ সালে তাঁর পিতার সঠিক সময়ে চিকিৎসা করাতে না পারার আক্ষেপ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যাতে ভবিষ্যতে অন্য কেউ চিকিৎসার অভাবে ভুগতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।
সর্বোদয় ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক শেখর পাল চৌধুরী বলেন, “লাখুদা’র অক্লান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা সর্বোদয় বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের ফলে বৃহত্তর মালুগ্রাম ও আশপাশের এলাকার বহু দরিদ্র মানুষ উপকৃত হবেন।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে সর্বোদয় বিদ্যালয়কে মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতা সংগ্রামী শচীন্দ্রমোহন দত্ত (লাখুদা)-র ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সর্বোদয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এর অংশ হিসেবেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের এই উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা



