প্রাচীন জ্ঞানের আলোকে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু আন্তর্জাতিক সম্মেলন

বরাক তরঙ্গ, ৩০ জানুয়ারি : পর্বত ও পাহাড়ি অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব  নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হলো আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুক্রবার সকালে বিপিনচন্দ্র পাল মিলনায়তনে দু’দিনের এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন উপাচার্য অধ্যাপক রাজীবমোহন পন্থ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম গঙ্গাভূষণ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক অনুপকুমার দে পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থায়িত্ব নিয়ে ভারতের প্রাচীন সভ্যতাগত জ্ঞান-ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য, ভারসাম্য রক্ষা এবং সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের ধারণা বহু আগেই বৈদিক চিন্তা ও হিন্দু ধর্মগ্রন্থে প্রতিফলিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আজ সমগ্র বিশ্ব এই ভাবনাগুলির গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উপাচার্য অধ্যাপক রাজীবমোহন পন্থ উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি অঞ্চলে কাটানো শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতের ধরণে পরিবর্তন, বনভূমির অবক্ষয় ও আবহাওয়ার পরিবর্তন বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলে বাস্তুতন্ত্র ও মানুষের জীবিকাকে প্রভাবিত করছে। দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সমস্যার সমাধানে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান—উভয় স্তরেই পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনের বিদ্যায়তনিক অধিবেশনে উত্তরাখণ্ড কাউন্সিল ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউকস্ট)-এর এমেরিটাস বিজ্ঞানী অধ্যাপক জিসিএস নেগি ‘পশ্চিম হিমালয়ে বনবাস্তুতন্ত্রের পরিষেবা, জলসম্পদ ও সম্প্রদায়ের জীবিকায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: উদীয়মান ইস্যু’ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে জলবায়ুর তারতম্য বাস্তুতন্ত্রকে ব্যাহত করছে, জলপ্রাপ্যতা কমাচ্ছে এবং পাহাড়ি সম্প্রদায়গুলিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। তিনি এরজন্য অঞ্চলভিত্তিক গবেষণা ও নীতিগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

দেরাদূনের গ্রাফিক এরা হিল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রীমা পন্থ ‘ইকোফেমিনিজম: মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে হিমালয়ান দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক বক্তৃতায় পরিবেশ অবক্ষয় ও দুর্যোগের লিঙ্গভিত্তিক প্রভাব তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে তিনি পাহাড়ি অঞ্চলে জলবায়ুজনিত ঝুঁকির ভার কীভাবে অসমভাবে মহিলাদের ওপর পড়ে, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন শিলচর এনআইটির ডিরেক্টর অধ্যাপক দিলীপকুমার বৈদ্য, রোজকান্দি টি এস্টেটের জেনারেল ম্যানেজার আইবি উবাদিয়া, আইসিএআর–কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সিনিয়র বিজ্ঞানী ও প্রধান ড. যোগীশরাধ্য আর, আয়োজক কমিটির সাংগঠনিক সচিব ড. শুভদীপ রায়চৌধুরী প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *