দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ২০ জানুয়ারি : ধলাইয়ের রুকনী প্রথম খণ্ড এলাকায় মঙ্গলবার সংঘটিত এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দা রেজু মিয়া লস্করের বসতবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়ে যায়। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ঘরবাড়ি ও সংসারের যাবতীয় আসবাবপত্র গ্রাস করে নেয়। ফলে রেজু মিয়া লস্কর ও তাঁর পরিবার কার্যত সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রেজু মিয়া লস্করের স্ত্রী রায়না বেগম ঘরের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ তিনি ঘরের উপরের অংশে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখেন। দ্রুত আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় মানুষ সঙ্গে সঙ্গেই আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রুকনী নদী থেকে হাতে হাতে জল এনে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব হলেও, ততক্ষণে পরিবারের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত রেজু মিয়া লস্কর জানান, এই অগ্নিকাণ্ডে তাঁর লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি পেশায় একজন হাঁস-মুরগি বিক্রেতা। জীবিকা নির্বাহের একমাত্র উপায় হিসেবে বাড়িতে দু’টি খাঁচায় বহু হাঁস-মুরগি রেখেছিলেন। পাশাপাশি ছিল দুটি গৃহপালিত ছাগল। আগুনের তীব্রতায় সেগুলিকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। হাঁস-মুরগি ও ছাগল আগুনে পুড়ে মারা যায়। রেজু মিয়া লস্কর আরও বলেন, ব্যবসা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে বসতবাড়ি পুড়ে যাওয়ায় মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়েও সংকটে পড়েছে পরিবারটি।
এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। ধলাই বিধানসভার বিধায়ক নেহার রঞ্জন দাস, রুকনী গঙ্গানগর জেলা পরিষদের সদস্য মিহির কান্তি রায় এবং রুকনী ইস্ট অঞ্চলের সভাপতি জিষ্ণু রায়ের কাছে আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে।



