ভুয়ো আইনজীবী আলতাফ হোসেনের কারাদণ্ড

বরাক তরঙ্গ, ৩০ নভেম্বর : ভুয়ো আইনজীবীকে কারাবাসের সাজা শুনালো আদালত। সাজাপ্রাপ্ত ভুয়ো আইনজীবী আলতাফ হোসেন বড়ভূইয়া সোনাই এলাকার সৈদপুর চতুর্থ খণ্ডের বাসিন্দা। বুধবার জেলার ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট- ৪ ড. বি হোসেন মজুমদারের আদালত আলতাফ হোসেনকে কারাবাসের সাজা শুনায়। শনিবার আদালত রায় ঘোষণা করে। এতে আলতাফ হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে ৬ মাস কারাবাসের সাজা শুনিয়ে সঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। জরিমানা অনাদায়ে তাকে ভোগ করতে হবে আরো ৩ মাসের কারাদণ্ড।

উল্লেখ্য, আলতাফ হোসেনের জালিয়াতি প্রকাশ পায় ২০০৮ সালে। এর আগে বেশ কয়েক বছর তিনি এডভোকেটস বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পদ নিয়ে কাছাড় আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করেন। আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার সময় তিনি যে সার্টিফিকেট পেশ করেন, সে অনুযায়ী করিমগঞ্জ ল’ কলেজে তিনি পড়াশোনা করেছেন। এবং ওই কলেজ থেকেই এলএলবি চূড়ান্ত কোর্সের পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন প্রথম শ্রেণিতে। এই সার্টিফিকেটের দৌলতে তিনি আইন ব্যবসা চালিয়ে যাবার মধ্যে অ্যাডভোকেটস বার অ্যাসোসিয়েশনে তার নামে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় প্রথম শ্রেণিতে তো দূর, আলতাফ এলএলবি উত্তীর্ণই হননি। এর ভিত্তিতে অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে করিমগঞ্জ ল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দেখা যায় আলতাফ ওই কলেজে কিছুদিন পড়াশোনা করলেও চূড়ান্ত পরীক্ষা উত্তীর্ণ হননি। অর্থাৎ তিনি যে সার্টিফিকেট পেশ করেছেন তা সম্পূর্ণ জাল।
এদিকে, আলতাফের সার্টিফিকেট জাল বলে নিশ্চিত হওয়ার পর অ্যাডভোকেটস বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে  থানায় দায়ের করা হয় এজাহার। পুলিশ এর ভিত্তিতে মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত চালায়। পুলিশি তদন্ত প্রক্রিয়ার পর মামলা গড়ায় আদালতে।প্রথমে এই মামলা চলছিল অ্যাডিশনাল সিজেএম-এর আদালতে। পরবর্তীতে তা স্থানান্তরিত হয় ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৪-এর আদালতে। বিচার প্রক্রিয়া শেষে শনিবার আদালত রায় ঘোষণা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *