বরাক তরঙ্গ, ১৩ নভেম্বর : বৃহস্পতিবার, বিশ্বনাথ জেলার গহপুরের ভোলাগুড়িতে আয়োজিত মহিলা উদ্যোগিতা প্রকল্পের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আপনাদের একটি কথা মনে রাখতে হবে যেদিন বিজেপি অসমে থাকবে না, সেদিন দিসপুর থেকে শুরু করে গোটা অসম মিয়াঁ লোকেরা দখল করে নেবে। আমি ভবিষ্যদ্বাণী করে রাখছি… যেদিন বিজেপি সরকার অসমে থাকবে না, আজ যারা বিজেপিকে অভিশাপ দিচ্ছে, তারা একদিন অনুতপ্ত হবে।”
তিনি জানান, মহিলা উদ্যোগিতা প্রকল্পের অধীনে গহপুর কেন্দ্রের ৩৬,৮৫৭ জন মহিলাকে ১০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। মহিলাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার মানে দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি। বিজেপি সরকার থাকলেই নারী নিরাপদ, অসমিয়া নিরাপদ, অসমের ভূমি নিরাপদ। আমরা সবসময় গরিব ও মহিলাদের পাশে আছি।”
মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি বিস্ফোরণ প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ-কে তীব্র আক্রমণ করেন এবং বিরোধী ঐক্য নিয়েও কটাক্ষ করেন। ‘মিয়াঁ আগ্রাসন’ প্রসঙ্গে নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী গৌরব গগৈ, অখিল গগৈ এবং লুরিনজ্যোতি গগৈ-কে কটাক্ষ করে বলেন, এই তিন গগৈ-ই মিয়াঁ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সমর্থক। তারা গগৈ বংশের গৌরব নয়, মিয়াঁদের রক্ষক।” চিনি বলেন, “গৌরব গগৈ পাকিস্তানের আইএসআই-এর এজেন্ট। তাঁর স্ত্রী আরও বড় এজেন্ট, তিনি একটু কম। আমাদের হাতে এই সংক্রান্ত বহু প্রমাণ রয়েছে। আমি আজও অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বলতে চাই, গৌরব গগৈ আজও পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত, এবং তাঁর পরিবারও পাকিস্তানি এজেন্টের মতো আচরণ করে আসছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “কোনও ঘটনাই ঘটুক, গৌরব গগৈ সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা করেন না; সন্ধ্যার পর সামান্য কিছু বলেন, মানে তখন তিনি অনুমতি নেন। দিল্লি বিস্ফোরণের পর তাঁর প্রথম ফেসবুক পোস্টে ‘নিন্দা’ শব্দটাই ছিল না, কেবল দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। পরে লেখা-লেখির পর আস্তে করে ‘নিন্দা’ শব্দটি যোগ করেন।”
বিরোধীদের জোট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, “অসমে তিন গগৈ আছে, এই তিন গগৈ যতই চেষ্টা করুক, তারা চিরকাল হারবে। কিন্তু আমাদের গগৈ — তরঙ্গ গগৈ-রা জিতবে। বাকিরা চিরকাল পরাজিত থাকবে।”



