৬ জানুয়ারি : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নিধন অব্যাহত। সোমবারই যশোরে গুলি করে খুন করা হয় এক হিন্দু সাংবাদিককে। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা না কাটতেই এবার এক হিন্দু মুদি ব্যবসায়ীকে খুনের অভিযোগ উঠল ওপার বাংলায়। এই ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মণি চক্রবর্তী। তিনি নরসিংদী জেলার চরসিন্ধুর বাজারে মুদির দোকান চালাতেন। সোমবার রাতে দোকানেই ছিলেন মণি। সেই সময় একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তাঁর উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপানো হয়। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় মণিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
চরসিন্ধুর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মণি একজন শান্ত ও পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর সঙ্গে কারও কোনও শত্রুতা ছিল না। তবে একটি জনবহুল বাজারে এই হত্যাকাণ্ড সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয়ের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবিও জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশে এটি দ্বিতীয় হিন্দু খুনের ঘটনা। এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই যশোরের মণিরামপুরে রানা প্রতাপ বৈরাগী নামে এক হিন্দু সাংবাদিক তথা ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন করে দুষ্কৃতীরা। গত ১৮ দিনে বাংলাদেশে ৬ জন হিন্দু খুনের ঘটনা সামনে এসেছে। বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পরই সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার আরও বেড়ে গিয়েছে। প্রথমেই ময়মনসিংহের এক হিন্দু তরুণ দীপু চন্দ্র দাসকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। এরপর থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক সংখ্যালঘু নিধনের ঘটনা সামনে এসেছে। যা স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।



