বরাক তরঙ্গ, ৫ মার্চ : সফলভাবে শেষ হল কাছাড় জেলার আশা সম্মেলন। বৃহস্পতিবার শিলচর হাইলাকান্দি রোডস্থিত আসাম পেলেসে দিনভর জাঁকজমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর যবনিকা ঘটে। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ১০টায়। জেলার ৮টি গ্রামীণ স্বাস্থ্য খন্ড ও শিলচর নগর এলাকার প্রায় দুই হাজার আশাকর্মী ও আশা সুপারভাইজার এদিন সম্মেলনে জড়ো হন। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা করেন উপস্থিত অতিথি বরাক উপত্যকা উন্নয়ন মন্ত্রী কৌশিক রায়, সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য, অতিরিক্ত জেলা আয়ুক্ত নবজ্যোতি কুটুম, অতিরিক্ত জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ এম আই বড়ভূঁইয়া সহ অন্যান্যরা। পরে গত এক বছরে জেলায় প্রয়াত হওয়া ১৮ জন আশা ও আশা সুপারভাইজারদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন অতিথিরা। জেলা শাসকের কার্যালয়ে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সভার দরুন অনুষ্ঠানে পরে এসে যোগদান করেন জেলার যুগ্ম স্বাস্থ্য সঞ্চালক ডাঃ (মিসেস) কাবান টেরনপি।
শুরুতে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন ডাঃ এম আই বড়ভূইয়া। আশা সম্মেলন বিষয়ে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন জেলা এন এইচ এমের কর্মসূচি প্রবন্ধক রাহুল ঘোষ। যুগ্ম সঞ্চালক ডাঃ (মিসেস) কাবান টেরনপি। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য বলেন, আশাকর্মী আছেন বলেই স্বাস্থ্য অভিযান চলছে। আশাকর্মীরা কাজ করছেন বলেই মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমছে। আশাকর্মীরা সাধারণতঃ সমাজকে কিছু দেয়ার প্রত্যাশা নিয়েই কাজ করেন।

মুখ্য অতিথির ভাষণে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, কেবল কাছাড় নয়, গোটা ভারতে স্বাস্থ্য বিভাগে আমুল পরিবর্তনে অবদান রেখেছেন আশাকর্মীরা। তিনি করোনা মহামারির সেই দুঃসময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, আশাকর্মীদের জন্যই এই অতি মহামারি কাটিয়ে গোটা দেশবাসীকে ডাবল ডোজ কোভিড-১৯ টিকাকরণ প্রদান করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, জেলার প্রতিটি হাসপাতালে আশাকর্মীরা গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে আসেন। কিন্তু রাতে থাকার জন্য তারা নানা অসুবিধার সম্মুখীন হন। এই সমস্যাকে কাটিয়ে উঠতে প্রতিটি হাসপাতালে আশাকর্মীদের জন্য পৃথক সব সুবিধাযুক্ত অপেক্ষাগার নির্মাণ করার কথা বলেন। আশাকর্মী ঘরে ঘরে পরিদর্শনে সুবিধার জন্য “আশা এক্সপ্রেস” নামে স্কুটি প্রদানের সিদ্ধান্ত আসাম সরকার হাতে নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী কৌশিক রায়।

অনুষ্ঠানে ষাট বছর পেরিয়ে যাওয়া ১২জন আশাকর্মীকে ২ লক্ষ টাকা করে অবসরকালীন এককালীন অনুদানের চেক প্রদান, গত এক বছরে প্রয়াত ১৮ আশাকর্মীর নিকটাত্মীয়কে এককালীন ‘আশা কিরণ’ প্রকল্পে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদানের চেক প্রদান করা সহ প্রতিটা হেল্থ ব্লক থেকে ৩ জন করে সেরা প্রদর্শনকারী মোট ২৭ জন আশাকর্মীকে স্মারক ও সংশাপত্র পত্র দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে তিনজন করে অনুষ্ঠানে এসব প্রদান করা হয়। বাদবাকিদের নিজেদের স্বাস্থ্যখন্ডে প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া গত ১ বছরে চিকিৎসার ব্যয়ে আবেদন করা ১২৬ জন আশাকর্মীদের জন্য গড়ে নুন্যতম ২৫ হাজার টাকা করে অনুদানের টাকাও ব্লক পর্যায়ে দেয়া হবে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রতিটি ব্লকের আশাকর্মীরা নাটক, ধামাইল, সঙ্গীত পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ রোহন বিশ্বাস, ডাঃ এ পি গোয়ালা, ডাঃ দিব্যজ্যোতি নাথ, আসাম ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশনের ডাঃ ইন্দ্রনীল সিনহা, কাছাড় জেলা পরিষদ সভাপতি কঙ্কন নারায়ন শিকিদার, ডাঃ জুরি শর্মা, ডাঃ দীপঙ্কর চক্রবর্তী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসেবে গান পরিবেশন করেন তন্দ্রা রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন নরসিংহপুর মিনি পিএইচসি-র হেল্থ এডুকেটর সঞ্জীব দাস।



