দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ জানুয়ারি : দর্মিখাল হাইস্কুলে সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব নানা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার উদযাপিত হয়েছে। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এরপর প্রকাশ্য সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করা হয়। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত প্রকাশ্য সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কাছাড় জেলা সভাপতি রূপম সাহা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধলাই বিধানসভার বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস।
স্কুল এসএমডিসির সভাপতি রতিশ সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভার শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলন ও অতিথিদের বরণ করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক শতদল নাথ। পরে শিক্ষক সমিরণ রায় স্কুল প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৭৫ সালে প্রত্যন্ত অঞ্চল দর্মিখালে স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় ভূমিদান ও বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষাদানের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের যে অবদান ছিল, তা আজও স্মরণীয়। তিনি ধাপে ধাপে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে গড়ে উঠেছে, তার বিস্তারিত তথ্য উপস্থিত নাগরিকদের সামনে তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রূপম সাহা বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে মন্ত্রী কৌশিক রাই ও সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও যথাক্রমে কেবিনেট বৈঠক ও সংসদের অধিবেশনের কারণে তাঁরা উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে তাঁরা সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, একসময় গ্রামের সবচেয়ে জরাজীর্ণ ভবন ছিল স্কুল ভবন, কিন্তু ১৯৯৬ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার গঠনের পর স্কুল-কলেজের পরিকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। তিনি বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষাদানে যুক্ত শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিধায়ক নীহাররঞ্জন দাস বলেন, শিক্ষা একটি উন্নত সমাজ গঠনের প্রধান চাবিকাঠি। যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপ কমে যায়। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান এবং পঞ্চাশ বছর আগে প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যাঁরা ভূমিকা রেখেছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি স্কুলের সার্বিক উন্নয়নে সচেষ্ট থাকার আশ্বাসও দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার বিশ্বজিৎ দাস। উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক শ্যামবাবু লুহার, পূর্ব ধলাইয়ের প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য স্বপন কুমার দাস, প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি সুবোধরঞ্জন দাসসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে দর্মিখাল হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথমে বেসরকারিভাবে পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে স্কুলটি সরকারি স্বীকৃতি ও প্রাদেশিকীকরণ লাভ করে।



