সামান্য পার্কিংকে কেন্দ্র করে রক্তাক্ত কালাইন, হাসপাতালে গিয়েও পরিবারের উপর দ্বিতীয় দফা হামলা, আহত পাঁচ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৭ ফেব্রুয়ারি : সামান্য গাড়ি পার্কিংকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কালাইন। প্রথমে এক ট্রাকচালকের উপর নৃশংস হামলা, পরে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে ফের প্রাণঘাতী আক্রমণের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ঘটনাটি কালাইন কলেজ রোড সংলগ্ন এলাকায় ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা ও পেশায় ট্রাকচালক জয়দীপ দাস নিজের ট্রাক পার্কিং করার সময় জাতীয় সড়ক দিয়ে আসা একটি হুন্ডাই ভেন্যু গাড়ির সঙ্গে সামান্য স্পর্শ লাগে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই গাড়িটির তেমন কোনও দৃশ্যমান ক্ষতি হয়নি। অভিযোগ, এর পরেই হুন্ডাই ভেন্যু গাড়ির চালক ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাক থেকে জয়দীপ দাসকে জোর করে নামিয়ে মাটিতে ফেলে দেন এবং উপর্যুপরি মারধর করেন। উল্টো দিকের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায় সম্পূর্ণ ঘটনাটি ধরা পড়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সাময়িকভাবে গুজব ছড়ায় যে এলাকায় সাম্প্রদায়িক অশান্তি দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

এরপর আহত জয়দীপ দাসকে নিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা কালাইন থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তাঁদের প্রথমে কালাইন হাসপাতালে চিকিৎসা ও মেডিক্যাল রিপোর্ট সংগ্রহ করার পরামর্শ দেয়। কিন্তু অভিযোগ, সেখানেই ঘটে আরও বড় হামলার ঘটনা। আগের আক্রোশের জেরে অভিযুক্ত গাড়িচালক একদল যুবককে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে জয়দীপ দাস ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপর ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। এই হামলায় মোট পাঁচজন আহত হন, যাঁদের মধ্যে তিনজন গুরুতরভাবে জখম। হামলার সময় হাসপাতালের রেলিংও ভেঙে যায়। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। প্রকাশ্যে দিবালোকে হাসপাতালে ঢুকে এ ধরনের হামলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কালাইন থানার পুলিশ। ইতিমধ্যে হুন্ডাই ভেন্যু গাড়ির চালকসহ কয়েকজন হামলাকারীকে সনাক্ত করা হয়েছে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কালাইন থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে উত্তেজিত জনতা একসময় কালাইন থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

একটি সামান্য পার্কিং সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে মারধর এবং পরে হাসপাতালে গিয়ে পুনরায় হামলার ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসী। সচেতন মহলের মতে, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি এবং সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *