মিজোরাম হয়ে মায়ান্মারে গিয়ে নিখোঁজ ধলাইয়ের যুবকসহ ২ ব্যবসায়ী, ১৪ দিন ধরে উৎকণ্ঠায় পরিবার

Spread the news

রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ মার্চ : মিজোরাম হয়ে মায়ান্মারে পণ্যবাহী গাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে গেছেন কাছাড় জেলার ধলাইয়ের  এক যুবকসহ পশ্চিমবঙ্গের দুই ব্যবসায়ী। ঘটনার ১৪ দিন পার হলেও এখনও পর্যন্ত তাঁদের কোনও খোঁজ মেলেনি, ফলে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের।

নিখোঁজ যুবক আক্তার হোসেন মজুমদার (২২), ধলাই থানার অন্তর্গত রাজঘাট প্রথম খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় গাড়ির হেল্পার। পরিবারের অভিযোগ, ঈদের ঠিক এক সপ্তাহ আগে পাশের গ্রাম উত্তর লাইলাপুর গ্রামের বাসিন্দা গাড়িচালক আইনউদ্দিন তাঁদের বাড়িতে এসে আক্তারকে মিজোরামের চাম্পাই   যাওয়ার প্রস্তাব দেন। পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও আক্তার তাঁর সঙ্গে রওনা দেন।

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার দুই ব্যবসায়ীর ডানলপ পণ্য নিয়ে মোট দুটি গাড়িতে ছয়জন ওই যাত্রায় অংশ নেন। মিজোরামের চাম্পাই সীমান্ত পেরিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার ভেতরে মায়ানমারে প্রবেশ করার পর দুটি গাড়ি আলাদা পথে চলে যায় ব্যবসার উদ্দেশ্যে।

এরপর সাত দিন পর একটি গাড়ি ফিরে এলেও অন্য গাড়িটি আর ফেরেনি। নিখোঁজ গাড়িতে থাকা তিনজনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে তাঁদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

ফিরে আসা গাড়ির চালক আইনউদ্দিন জানান, পণ্য বিক্রি না হওয়ায় তিনি নিজে মিজোরাম হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। তাঁর অনুমান, নিখোঁজরা হয়তো মায়ান্মার পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন, অথবা সীমান্তবর্তী এলাকায় মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে পড়েছেন।

এদিকে নিখোঁজদের মধ্যে একজন ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোন মাঝে মধ্যে অল্প সময়ের জন্য চালু হলেও যোগাযোগের চেষ্টা করলে স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে সেটিও আবার বন্ধ হয়ে যায়। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে মিজোরামের চাম্পাই এলাকার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের সন্ধান পাওয়া গেলেও সেখানে গিয়ে কোনও খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজ আক্তারের মা রেজিয়া বেগম মজুমদার জানান, ঈদের আগে ছেলেকে যেতে বারণ করেছিলেন তিনি। ছেলের কোনও খোঁজ না পেয়ে ক্যামেরার সামনে ভেঙে পড়েন তিনি। একইসঙ্গে পরিবার দ্রুত তাঁর সন্ধান চেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

অন্যদিকে, নিখোঁজ দুই ব্যবসায়ীর পরিবারের সদস্যরাও তাঁদের খোঁজে ইতিমধ্যে মায়ানমারের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে, যদিও এখনও তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছানোর খবর মেলেনি।

আক্তার হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বিষয়টি জানিয়ে লালাপুর পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *