মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৭ নভেম্বর : স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও সেতুর স্বপ্ন অধরা, ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামের মানুষ। স্বপ্ন সাকার করতে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল ও জেলা আয়ুক্ত প্রদীবকুমার দ্বিবেদী হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বধীন ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে দেশ জুড়ে উন্নয়নের জুয়ার বইলেও এখনও উন্নয়নে ছুয়া থেকে বঞ্চিত রয়েছে শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি বিধানসভার আসনের লোয়াইরপোয়া ব্লকের সলগই জিপির ডেঙ্গারবন্দ আসাইঘাট রুটে লঙ্গাই নদীর ওপর বহু প্রতীক্ষিত পাঁকা সেতুর স্বপ্ন আজও অধরাই রয়ে গেল। প্রত্যন্ত এলাকার জনগণ প্রতিদিনের জীবনযাত্রা, শিক্ষার্থী, রোগী সবার যাতায়াতের মূল পথ হলেও স্বাধীনতার এত বছর পরেও স্থায়ী সেতু না থাকায় এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
এই ঘাট দিয়ে লক্ষ্মীমামলা, আসাইঘাট, পেঁচারঘাট, মাগুরছড়া, হৈলামছড়া সহ পাঁচ-ছয়টি বড় গ্রামের মানুষ প্রতিনিয়ত নদী পারাপার করেন। পাশাপাশি এই রুটের সরাসরি সংযোগ রয়েছে অসম ত্রিপুরা আট নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে, কিন্তু সেতুর অভাবে সেই সুবিধা আজও পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।বৃষ্টির মরসুমে নৌকা এবং শুষ্ক মৌসুমে গ্রামের মানুষ নিজেরাই বানিয়ে তোলা বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে নদী পারাপার করেন। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি—তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী বাঁশের সেতু। আধুনিক যুগেও এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হওয়ায় মানুষের ক্ষোভ দিন দিন তীব্র হচ্ছে।স্থানীয়দের দাবি স্বাধীনতার পরে এত দশক পার হয়ে গেলেও একটি স্থায়ী সেতুর মুখ আমরা দেখলাম না।’২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে পাথারকান্দি সমষ্টির মোট ১৪টি স্থানের সঙ্গে এই রুটেও পাঁকা সেতু নির্মাণ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এলাকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। কিন্তু সেই ঘোষণা আজও বাস্তবায়নের পথে এখনও এগোয়নি, ফলে জনগণের মধ্যে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গুরুতর অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সবচেয়ে বড় বাধা এই সেতুহীন নদী। পুরনো পলো নৌকা কিংবা অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। সামান্য বৃষ্টিতে সেই সাঁকো ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুণ।
সেতু না থাকায় এলাকার অধিকাংশ মানুষকে সলগই বাজার বা অন্যান্য স্থানে যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময়, শ্রম এবং অর্থ—সবকিছুতেই বাড়তি চাপ পড়ে। স্থানীয়দের অধিকাংশই কৃষিকাজ, পশুপালন ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল; তাই সেতুর অভাবে তাদের দৈনন্দিন উপার্জনেও বড় ধাক্কা লাগছে।স্থানীয়রা ভুক্তভোগী বলেন জরুরি সময়ে চরম বিপদে পাড়তে হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান গুরুতর অসুস্থ রোগী বা গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় সবচেয়ে বড় বাধা এই সেতুহীন নদী। পুরনো পলো নৌকা কিংবা অস্থায়ী বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। সামান্য বৃষ্টিতে সেই সাঁকো ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে জীবনের ঝুঁকি বেড়ে যায় বহুগুণ।দীর্ঘ পথ ঘুরে চলতে বাধ্য হন এতে অর্থনৈতিক ক্ষতিও বিশাল আকারে হচ্ছে।নদী পারাপারের জন্য সেতু না থাকায় এলাকার অধিকাংশ মানুষকে সলগই বাজার বা অন্যান্য স্থানে যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময়, শ্রম এবং অর্থ সবকিছুতেই বাড়তি চাপ পড়ে। স্থানীয়দের অধিকাংশই কৃষিকাজ, পশুপালন ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল; তাই সেতুর অভাবে তাদের দৈনন্দিন উপার্জনেও বড় ধাক্কা লাগছে।স্থানীয় বাসীন্দারা বলেন আমরা দরিদ্র মানুষ। দীর্ঘপথ ঘুরে বাজারে গেলে আমাদের কাজের সময়টাই নষ্ট হয়ে যায়। এতে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনও কাজ হচ্ছে না। স্থানীয়দের আক্ষেপ আমরা শুধু ভোটার হয়েই রয়ে গেছি। আমাদের দুর্দশা কেউ দেখেও না দেখার ভান করছে।তবুও শেষ আশা বিধায়ক ও জেলা প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে জনগণ।



