বরাক তরঙ্গ, ৩০ ডিসেম্বর : স্মৃতি, মানবিকতা ও সমাজসেবার অনন্য মেলবন্ধনে ব্যতিক্রমী ভাবনায় সম্পন্ন হল ডাঃ লুৎফুর রহমান স্মৃতি একাদশ গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠান। প্রথম সম্মাননা পান নজমুল হোসেন মাঝারভূইয়া, যাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক, মানপত্র ও উত্তরীয় তুলে দেন ডাঃ এম মাসুম। দ্বিতীয় সম্মাননা প্রদান করা হয় ডাঃ নিকিতা মেহতাকে; তাঁকে সম্মাননা তুলে দেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী ও ডাঃ অরুণ ভট্টাচার্য। তৃতীয় সম্মাননা লাভ করেন লেখক আব্দুল শুক্কুর বড়ভূইয়া, তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন ডাঃ কিসমত সুলতানা।
এছাড়াও নাট্যকর্মী বিজয় খান, প্রাক্তন হকি খেলোয়াড় রাজীব দাস ও গৌতম সিনহা, নার্স লতিবুন নেসা, দৌড়বিদ মরম আলি, সমাজকর্মী পি বণিক, শ্বশুর-শাশুড়ির সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী মিনা বেগম লস্কর ও সালমা বেগম লস্কর, ক্রিকেটার মোফাজ্জল হোসেন মজুমদার, শিক্ষক এরশাদ উদ্দিন তাপাদার, সঙ্গীতশিল্পী বিক্রম বাউলিয়া, ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য কাটলিছড়া নারী শক্তি মহিলা সমিতি, রামানুজ বিদ্যামন্দির ও ফাতিমা এলপি স্কুল, বেটারেন ফুটবল ক্লাব এবং শিব দুর্গা ক্লাব পালঙঘাট-সহ একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করা হয়।

উপত্যকার সুপরিচিত ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘খোঁজ’-এর উদ্যোগে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিশিষ্ট অতিথিরা। শনিবার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোঁজ-এর সভাপতি শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ এম মাসুম, শিলচর মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ অরুণ ভট্টাচার্য, করিমগঞ্জ কলেজের প্রাক্তন উপাধ্যক্ষ কিসমত সুলতানা, সোনাই এমসিটি কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল মতিন লস্কর, শিলচর ডিএসএ-র প্রাক্তন সভাপতি বাবুল হোড়, হাইলাকান্দি ডিএসএ-র সভাপতি শৈবাল সেনগুপ্ত, দিল্লি থেকে আগত বিশেষ অতিথি ইমাম, ক্যান্সার হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য কল্যাণকুমার চক্রবর্তী, রেডিয়ান্ট মডেল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের এমডি কমরুল ইসলাম মজুমদার-সহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানের মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী।

স্বাগত ভাষণে ডাঃ এম মাসুম ডাঃ লুৎফুর রহমানের মানবিক আদর্শ, সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের নেপথ্য ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি সম্মানপ্রাপ্ত গুণীজনদের অবদান ও তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। এরপর ডাঃ লুৎফুর রহমানের জীবনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরেন তাঁর কন্যা ডাঃ কিসমত সুলতানা। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পথচলা থেকে শুরু করে খেলাধুলা ও সমাজসেবায় তাঁর বিস্তৃত অবদানের কথা শুনে আবেগে আপ্লুত হন উপস্থিত দর্শকরা। সাংস্কৃতিক পর্বে রেডিয়ান্ট হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা মনোজ্ঞ বিহু নৃত্য পরিবেশন করে।



