এক বছরে ৭০ হাজার অংশগ্রহণকারীকে সচেতনতার বার্তা সংস্থার_____
বরাক তরঙ্গ, ৩১ ডিসেম্বর : যোগ শিক্ষার প্রচার-প্রসারে ক্রমশ কাজ করে যাচ্ছে শিলচর ‘ নিরাময় স্কুল অব যোগ এডুকেশন’। শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সচেতন করছে যোগ প্রক্রিয়ার অনুশীলন নিয়ে। শুধু শিলচর বা বরাক উপত্যকা নয়, উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন প্রান্ত সহ দিল্লিতেও চলছে নিরাময়ের যোগ চেতনা অভিযান। চলছে যৌগিক ওয়েলনেস কর্মসূচি। আর যোগ শিক্ষাকে ছড়িয়ে দেওয়ার এই সংকল্পে ২০২৫ সালে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে নিরাময়। বিনামূল্যে প্রায় ৩৫০টি যোগ বিষয়ক অনুষ্ঠান করেছে সংস্থা। এক প্রেসবার্তায় মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছেন নিরাময় স্কুল অব যোগ এডুকেশন-এর চেয়ারম্যান ডা: অজিত কুমার ভট্টাচার্য ও ডিরেক্টর শতাক্ষী ভট্টাচার্য।
অজিতবাবু জানান, নিরাময় ভারত সরকারের আয়ুষ মন্ত্রকের যোগ বোর্ডের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত । রয়েছে ইন্ডিয়ান যোগ অ্যাসোসিয়েশনের ‘মেম্বার ইনস্টিটিউশন’ এর অনুমোদনও। তাছাড়া, আরও গুরুত্বপূর্ণ বেশ ক’টি স্বীকৃতির পালক জুড়েছে এই সংস্থানের সঙ্গে। তাই যোগ শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে নিরাময় পরিবারের প্রত্যেকেই খুব সচেতন। অন্য বছরের মতো এবারও নিরাময়ের বিনামূল্যে যোগ শিক্ষা প্রকল্প-যোগ চেতনা অভিযান, যোগ চেতনা মহোৎসব ও যৌগিক ওয়েলনেস -এর অন্তর্গত তিন শতাধিক অনুষ্ঠান হয়েছে বছর জুড়ে। পাশাপাশি আয়ুষ মন্ত্রকের যোগ সঙ্গম, হরিৎ যোগ, যোগ সমাবেশ, যোগ উৎসব এ সব মিলিয়ে ৫০টিরও বেশি কর্মসূচি হয়েছে। নিরাময়ের ‘ফ্রি যোগ এডুকেশন’ এর অধীন দিল্লি ও গাজিয়াবাদে ৩৮টি কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে। এই কর্মসূচগুলোর মধ্য দিয়ে নিরাময় স্কুল অব যোগ এডুকেশন কমেও ৭০ হাজার লোকের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে গেলে যোগ শিক্ষা সহ যোগ প্রক্রিয়ার চর্চার বিকল্প নেই, এই সচেতনতার বার্তাও ছড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি ‘বিশ্ব ধ্যান দিবস’কে কেন্দ্র করে ‘ধ্যান সে জ্ঞান’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে নিরাময়। এর অন্তর্গত সহস্রাধিক ধ্যান প্রোগ্রামের সংকল্প নেওয়া হয়েছে।

ডাঃ অজিতের কথায়, অনুষ্ঠানের মধ্যেই কিন্তু সীমিত নয় নিরাময়ের বৃহত্তর চিন্তাধারা। যোগ শিক্ষাকে পড়ুয়াদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে ভারত সেবাশ্রম সংঘের বেশ কটি প্রণবানন্দ বিদ্যমন্দিরের সঙ্গে চুক্তিপত্রও স্বাক্ষর করেছে সংস্থা। এই বছরের নভেম্বরে মধ্যপ্রদেশে আন্তর্জাতিক সহ উত্তরাখণ্ডে জাতীয় যোগ সম্মেলনে কৃতিত্বের সঙ্গে নির্দিষ্ট বিষয় উপস্থাপনও করেছেন নিরাময়ের প্রতিনিধিরা।
অজিতবাবু এও জানিয়ে দেন, আয়ুষ মন্ত্রককের সচিব বৈদ্য রাজেশ কোটেচার সঙ্গে এই বছরই পৃথক পৃথ্যক সাক্ষাৎ করেন নিরাময়ের প্রতিনিধিরা। আগস্টে যোগাচার্য রাহুল ও শতাক্ষী ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠক হয় আয়ুষ সচিবের। নিরাময়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শেখর চক্রবর্তীর সঙ্গেও সম্প্রতি আলোচনা হয় সচিবের। এই আলোচনাকালীন বহু মূল্যবান পরামর্শ পাওয়া যায় সচিব বৈদ্য রাজেশ কোটেচার কাছ থেকে। এই পরামর্শ যে নিরাময়ের যোগ শিক্ষার প্রসারে নতুন দিশা দেখিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আগামী বছরগুলোতে এভাবেই যোগ শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে নিরাময় সচেতনার বার্তা ছড়িয়ে যাবে, এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ডাঃ অজিত।



