আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ক্লাব গঠিত

বরাক তরঙ্গ, ১২ জানুয়ারি : দুর্যোগ মোকাবিলা ও ঝুঁকি প্রশমনের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল আসাম বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় স্তরের কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে গঠিত হলো ‘ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন ক্লাব’। দু’দিনের এই কর্মশালার বিষয় ছিল ‘দুর্যোগ বিজ্ঞানে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়’। আইইইই জিআরএসএস কলকাতা চ্যাপ্টার, এশিয়া প্যাসিফিক নিউরাল নেটওয়ার্ক সোসাইটি এবং রিলায়েন্স রিটেইলের সহযোগিতায় কর্মশালাটি গত ৯ ও ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও নবীন পেশাজীবীদের দুর্যোগ প্রশমন ও ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে সচেতন করা। এতে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও অংশ নেন গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়, আদামাস বিশ্ববিদ্যালয়, বিড়লা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, কটন বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।উদ্বোধনী অধিবেশনে ডিআরআর ক্লাবের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক অরুণ জ্যোতি নাথ ক্লাবের পটভূমি তুলে ধরে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে দুর্যোগ প্রস্তুতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

আইআইআইটি ভুবনেশ্বরের ড. দীপক কুমার আইইইই–র বিভিন্ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। অধিবেশনে পৌরোহিত্য করেন আইকিউএসি’র ডিরেক্টর তথা গবেষণা ও পরামর্শ বিভাগের ডিন অধ্যাপক পীযূষ পাণ্ডে। তিনি মানবকেন্দ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে “সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ” আদর্শের মাধ্যমে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণের কথা তুলে ধরেন। উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কর্মশালার সমন্বয়ক ড. অর্ণব পাল।

কর্মশালার বক্তৃতা পর্বে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস, গুয়াহাটির ড. শিবানী চৌহান বরুয়া সমাজভিত্তিক দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া, আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও পুনর্বাসন নিয়ে আলোচনা করেন। নর্থ-ইস্টার্ন হিল ইউনিভার্সিটির ড. অমিতাভ নাথ পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ও এআই–ভিত্তিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে সহনশীল সমাজ গঠনের ওপর আলোকপাত করেন। তেজপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. স্বল্প কুমার রায় ভূ-স্থানিক ফাউন্ডেশন মডেলের জন্য সেল্ফ-সুপারভাইজড লার্নিং নিয়ে বক্তৃতা দেন।

দ্বিতীয় দিনে আইআইআইটি, ভুবনেশ্বরের পরিচালক অধ্যাপক আশিস ঘোষ দুর্যোগ বিজ্ঞানে এআই–এর ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুস্মিতা ঘোষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা করেন। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় ভূমিধস ও বন্যার জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। কর্মশালার সমাপ্তি পর্বে অধ্যাপক এম গঙ্গাভূষণ উদ্যোগটির প্রশংসা করে কার্যকর শাসনব্যবস্থা ও দুর্যোগ প্রস্তুতির মাধ্যমে মানবজীবন রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন। শেষ বক্তব্য রাখেন আয়োজক ড. অদিতি নাথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *