দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ১ ফেব্রুয়ারি : ধলাই বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শেওরারতল গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর শেওরারতল ‘মডেল ভিলেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও গ্রামের মানুষ আজও ন্যূনতম উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। দেশ যখন দ্রুত ডিজিটাল যুগের দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন এই গ্রামের বাসিন্দাদের জীবনযাপন এখনো বিদ্যুৎ, পাকা রাস্তা ও নিরাপদ পানীয়জলের অভাবে চরম দুর্ভোগে কাটছে।
স্বাধীনতার সাত দশক অতিক্রান্ত হলেও উত্তর শেওরারতলে উন্নয়নের আলো পৌঁছায়নি। গ্রামে নেই ভালো রাস্তা, নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, পাশাপাশি রয়েছে তীব্র পানীয়জল সংকট। দৈনন্দিন জীবনের জন্য যে মৌলিক পরিকাঠামোগত সুবিধাগুলি প্রয়োজন, সেগুলি থেকেই বঞ্চিত গ্রামবাসীরা। উল্লেখ্য, শেওরারতল গ্রামকে একসময় ‘মডেল ভিলেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও গ্রামের একটি অংশে আজও রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানীয়জলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছায়নি।
এদিকে, আসন্ন ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়লেও গ্রামের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে কাউকেই মুখ খুলতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ভোটারদের। তাঁদের মতে, ভোটের সময় প্রতিনিধির অভাব হয় না, কিন্তু ভোট মিটলেই সমস্যাগুলি উপেক্ষিত থেকে যায়।
প্রায় এক বছর আগে শেওরারতল পিডব্লিউডি গ্রামীণ সড়ক থেকে তিনঘরি গ্রামীণ সড়ক পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের শিলান্যাস করা হয়। এই প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২১.৬৮৯ লক্ষ টাকা। তবে অভিযোগ, কাজের নামে শুধু মাটি ও সেন্টি দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রামের একটি বড় অংশে এখনো রাস্তা নির্মাণই হয়নি। যদিও এই রাস্তা সামান্য স্বস্তি দিয়েছে, তবু কবে গ্রামে স্থায়ী পাকা রাস্তা হবে—সেই অপেক্ষায় দিন গুনছেন বাসিন্দারা।
গ্রামের এক শুক্লবৈদ্য পদবীর বাসিন্দা জানান, বর্ষা এলেই দুর্ভোগ চরমে ওঠে। কাঁদামাখা রাস্তা দিয়ে ছোট ছোট পড়ুয়াদের স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ডিজিটাল যুগেও কেরোসিনের বাতি, মোমবাতি ও সৌরশক্তির উপর নির্ভর করেই রাত কাটাতে হয়। পানীয়জলের সমস্যাও প্রকট—দক্ষিণ শেওরারতল থেকে একদিন পরপর কিছু এলাকায় জল পৌঁছালেও বাকিদের কুয়ো ও পুকুরের জলই একমাত্র ভরসা।
গ্রামবাসীদের প্রশ্ন—কবে মিলবে বিদ্যুৎ, কবে হবে পাকা রাস্তা, আর কবে নিশ্চিত হবে বিশুদ্ধ পানীয়জলের ব্যবস্থা? উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার ব্যবধান ঘোচানোর দাবিই এখন উত্তর শেওরারতলবাসীর।



