রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৫ ফেব্রুয়ারি : ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি, তবে রাজনৈতিক উত্তাপ ইতিমধ্যেই তুঙ্গে। হারানো জমি ফিরে পেতে এবং রাজ্যে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরতে মরিয়া প্রয়াস শুরু করেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে এবং প্রদেশ কংগ্রেসের তৎপরতায় সংগঠনকে বুথ স্তর থেকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার ধলাই বাজারের এক বিবাহ ভবনে আয়োজিত হল এক গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ শিবির। শিবিরে ধলাই বিধানসভা এলাকার ৩টি ব্লকের সভাপতি, ৩০টি মণ্ডলের সভাপতি, ২৪৯টি বুথের সভাপতি এবং সমসংখ্যক বুথ লেভেল এজেন্ট সহ কয়েক শ’ দলীয় কর্মী অংশ নেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল সংগঠনের কাঠামোকে আরও শক্তিশালী, সক্রিয় এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ করা। প্রশিক্ষণ শিবিরে বিশেষ প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড় থেকে আগত অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিনোদ শিল। তিনি উপস্থিত কর্মীদের ‘বুথ ম্যানেজমেন্ট’ বা বুথ স্তরের ব্যবস্থাপনার খুঁটিনাটি বুঝিয়ে দেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে কীভাবে জনসংযোগ বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। বিজেপির ‘জনবিরোধী নীতি’ ও ‘বিভাজনের রাজনীতির’ বিরুদ্ধে কার্যকর রাজনৈতিক লড়াইয়ের পদ্ধতি।

কংগ্রেস সভাপতি সজল আচার্য-এর নেতৃত্বে আয়োজিত এই শিবিরে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক অভিজিৎ পাল, জেলা সাধারণ সম্পাদক কিশোর ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক (অরগানাইজেশন) আজমল হোসেন বড়ভূইয়া এবং জালাল আহমদ মজুমদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তিন ব্লক সভাপতি রাজেন পালিত (নরসিংপুর), বিষ্ণুপ্রসাদ সিংহ (বড়জালেঙ্গা) এবং ওম প্রকাশ সিংহ (পালংঘাট)। বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা সভাপতি সজল আচার্য বলেন, “ধলাই কেন্দ্রের অধিকার পুনরুদ্ধারে এবং গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে কংগ্রেস আজ ঐক্যবদ্ধ। তৃণমূল স্তরের প্রতিটি কর্মীকে আজ লড়াইয়ের মন্ত্র দেওয়া হয়েছে।” রাজনৈতিক তাৎপর্যরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধলাইয়ে কংগ্রেসের এই বিপুল জমায়েত এবং প্রশিক্ষণ শিবির শাসক শিবিরের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বুথ স্তর থেকে শুরু করে মণ্ডল পর্যায় পর্যন্ত কর্মীদের সক্রিয়তা প্রমাণ করছে যে, আসন্ন নির্বাচনে ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দিতে রাজি নয় বিরোধী দল। বিজেপি-র মোকাবিলায় জনসংযোগকেই প্রধান হাতিয়ার করতে চাইছে রাহুল গান্ধীর সেনানিরা। এদিনের এই প্রশিক্ষণ শিবির ধলাই কেন্দ্রে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিতকে শুধু মজবুতই করেনি, বরং নির্বাচনের আগে কর্মীদের মধ্যে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। মত কংগ্রেসের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের।



