ধলাইয়ে বিভিন্ন দাবিতে কৃষক সভার বিক্ষোভ কর্মসূচি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২০ জানুয়ারি : ধলাই সমজেলা কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে সারা ভারত কৃষক সভার বাম–ধলাই আঞ্চলিক কমিটির উদ্যোগে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার কর্মসূচি শেষে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে সমজেলা কমিশনার কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে উত্থাপিত দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে প্রতি কুইন্টাল ধানের জন্য রাজ্য সরকারের নির্ধারিত ২,৫৬৯ টাকা দরে সরকারি উদ্যোগে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়, প্রতিটি পঞ্চায়েতে সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্র স্থাপন, এমএনরেগা আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রামীণ বেকারদের কর্মসংস্থান সংকোচনের সরকারি ষড়যন্ত্র বন্ধ করা ও আইনটি পুনর্বহাল, বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়া কৃষক উচ্ছেদ বন্ধ, জমির নামজারি বন্ধের নির্দেশ প্রত্যাহার, যাদের রেশন কার্ড নেই তাদের সমীক্ষা করে রেশন কার্ড প্রদান, অরুণোদয় প্রকল্পে বঞ্চিত মহিলাদের নাম অন্তর্ভুক্তি, ষাট বছরের ঊর্ধ্বে কৃষকদের জন্য মাসিক পাঁচ হাজার টাকা পেনশনের ব্যবস্থা এবং বার্ধক্য ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সংগঠনের কাছাড় জেলা কমিটির সভাপতি রেজামন্দ আলি বড়ভূইয়া অভিযোগ করেন, সমজেলা কমিশনারের অযাচিত হস্তক্ষেপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে জনঅসন্তোষকে দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ধান কাটার মরশুম প্রায় শেষ হওয়ার পর রাজ্য সরকার ধানের কুইন্টাল প্রতি মূল্য ঘোষণা করলেও সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না থাকায় কৃষকরা কম দামে বাজারে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এমএনরেগা আইন পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আগের ৯০ শতাংশ কেন্দ্র ও ১০ শতাংশ রাজ্য বরাদ্দের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় অংশ ৬০ শতাংশে নামিয়ে এনে রাজ্যের উপর ৪০ শতাংশ আর্থিক চাপ চাপিয়ে দিয়েছে। তাঁর দাবি, বহু রাজ্য আর্থিক সংকটের কারণে এই বরাদ্দ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে জমির নামজারি বন্ধ থাকায় কৃষকরা জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্পোরেট স্বার্থে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ছাড়াই কৃষক উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। রাজ্য সরকার জনগণের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়ে ধর্ম ও ভাষার নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে বলেও মন্তব্য করেন। এই পরিস্থিতিতে সরকারের বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান রেজা মন্দ আলি বড়ভূইয়া। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কাছাড় জেলা কমিটির সম্পাদক সুভাষ দেব, যুগ্ম সম্পাদক অরূপ চক্রবর্তী প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *