মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৩ জানুয়ারি : ভোগালি বিহু ও মকর সংক্রান্তির প্রাক্কালে উৎসবের আনন্দঘন আবহে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এই সাক্ষাতে পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের মীন, পশুপালন, ভেটেনারি ও পূর্ত বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আন্তরিকভাবে উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে ভোগালি বিহু ও মকর সংক্রান্তির মাধ্যমে রাজ্যে সামাজিক সম্প্রীতি, ঐক্য এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্ব আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ভোগালি বিহু অসমের কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
এই সৌজন্য সাক্ষাতে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডাইরি ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডিরেক্টর পঞ্চালি কাকতি; প্রাণিসম্পদ ও পশুচিকিৎসা বিভাগের ডিরেক্টর ও ALDA-র সিইও ড. জয়ন্ত কুমার গোস্বামী এবং মৎস্য দপ্তরের ডিরেক্টর গৌরীশঙ্কর দাস।
আলোচনাকালে ভোগালি বিহু ও মকর সংক্রান্তির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ভোগালি বিহু কেবল একটি উৎসব নয়, এটি অসমের পরিশ্রমী কৃষক সমাজের সাফল্য, ঐতিহ্য ও জীবনধারার প্রতিফলন। এই উৎসব মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। উৎসবের সময় যে ঐক্য ও আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়, সেটিই একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাজ্য গঠনের মূল ভিত্তি।
উপস্থিত আধিকারিকরাও মুখ্যমন্ত্রীকে ভোগালি বিহু ও মকর সংক্রান্তির শুভেচ্ছা জানান এবং নিজ নিজ দপ্তরের চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংক্ষেপে অবহিত করেন। বিশেষভাবে ডাইরি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। সামগ্রিকভাবে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ প্রশাসনিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



