দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ জানুয়ারি : শিলচর শঙ্করমঠ ও মিশনের প্রাঙ্গণে পরম পূজ্য স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজের ১১৭তম জন্মবার্ষিকী এবং মিশনের ১১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অংশ হিসেবে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক উৎসবের সূচনা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানে পঞ্চম প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন শিলচর শঙ্করমঠ ও মিশনের কর্মাধ্যক্ষ বিজ্ঞানানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ। তাঁর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন ভোলা গিরি আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী ভুবনেশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ, স্বামী সঞ্জীবানন্দ গিরি মহারাজ, রাজীবানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ, ধ্যান আত্মানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ, কাশী থেকে আগত পন্ডিত রাজু আরিয়া এবং শ্রীমৎ রামেশ্বরানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ।অনুষ্ঠানের শুরুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগমনকারী সাধু-সন্তদের গলায় উত্তরীয় ও ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে শিলচর শঙ্করমঠ ও মিশনের পরিচালনা কমিটির সম্পাদক বিপ্লব কুমার দে এবং গীতা প্রশিক্ষণার্থী ছাত্রছাত্রীরা। বক্তব্যে কর্মাধ্যক্ষ শ্রীমৎ বিজ্ঞানানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশ্য করে বলেন, পরম পূজ্য স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজের দর্শনে ‘বহু জন্মের সাধনা’ একটি কেন্দ্রীয় ধারণা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে প্রেম এবং নামরুচি এক জন্মে আসে না—এটি আত্মার দীর্ঘ যাত্রার ফল।
গুরুদেবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুরুর সান্নিধ্যে এই রুচি জাগ্রত হয় এবং তাঁর শিষ্যরা আজও এই শিক্ষা অনুসরণ করে সমাজসেবায় নিয়োজিত। এই অঞ্চলের লোকেরা তাঁকে স্মরণ করে বলেন, স্বামীজীর ভালোবাসা আজও জীবন্ত।কাশী থেকে আগত পন্ডিত রাজু আরিয়া বক্তব্যে বলেন, ঈশ্বরকে মেনে চললে মানুষ সত্য, অহিংসা ও কর্তব্যবোধ শেখে। রামায়ণ বা মহাভারতের মতো গ্রন্থগুলো দেখায় যে ঈশ্বরভক্তির ফলে ধর্মপথে থাকা সহজ হয়।
অন্যদিকে, রামেশ্বরানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ বলেন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির যুগেও মানুষের মনে অস্থিরতা থাকে। ঈশ্বরে বিশ্বাস মনকে শান্ত করে এবং ধ্যান-উপাসনার মাধ্যমে স্ট্রেস কমায়।শিলচর শঙ্করমঠ ও মিশনের পরিচালনা কমিটির সম্পাদক বিপ্লব কুমার দে এই অঞ্চলের সকল সনাতনী ধর্মপ্রাণ ভক্তবৃন্দকে তিন দিনব্যাপী এই সনাতনী ধর্মীয় উৎসবে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন। উৎসবের পরবর্তী দিনগুলোতে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং ভক্তিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।



