মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ মার্চ : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পাথারকান্দি কেন্দ্রে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে। শাসকদল বিজেপির লক্ষ্য, প্রার্থী তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালকে পুনরায় বিজয়ী করে দিসপুরে পাঠানো এবং টানা তৃতীয়বারের মতো বিধায়ক নির্বাচিত করে নতুন রেকর্ড গড়া। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কেন্দ্রজুড়ে জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। বিশেষত, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর আসন্ন জনসভাকে সফল করতে দলীয় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লোয়াইরপোয়া ব্লকের বাজারিছড়া এলাকার লালমাটিতে অনুষ্ঠিতব্য এই সভাকে ঐতিহাসিক রূপ দিতে ইতিমধ্যেই একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সময় স্বল্পতার মধ্যেও নির্বাচনী প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখা হচ্ছে না। দিন-রাত প্রচার, জনসংযোগ এবং সংগঠন মজবুত করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পাল। ধারাবাহিকভাবে সভা, কর্মী বৈঠক এবং সাংগঠনিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি তৃণমূল স্তরের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখছেন। এই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার লোয়াইরপোয়া মণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বুথ সভাপতি, শক্তিকেন্দ্র প্রধান, ওয়ার্ড সদস্য, এপি সদস্য এবং জিপি সভাপতিরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের প্রতিটি স্তরের নেতৃত্বের অংশগ্রহণে বৈঠকটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী কৌশল, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেতারা জানান, প্রতিটি বুথই নির্বাচনের মূল ভিত্তি, তাই কর্মীদের আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল হওয়া জরুরি।
এছাড়া অমিত শাহর জনসভাকে কেন্দ্র করে দায়িত্ব বণ্টন, প্রচার জোরদার, প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছনো এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। প্রত্যেক কর্মীকে নির্দিষ্ট দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ত্রুটি ছাড়াই কর্মসূচি সফল করা যায়। বৈঠকে কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, এই জনসভা শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং সংগঠনের ঐক্য, শক্তি এবং জনসমর্থনের এক বড় প্রদর্শনী হবে। তিনি সকল কর্মীকে নিষ্ঠা ও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, উপস্থিত কর্মীরাও অঙ্গীকার করেন যে, তারা ঐক্যবদ্ধভাবে এই কর্মসূচিকে সফল করে তুলবেন। তাদের আত্মবিশ্বাস ও উদ্দীপনা সংগঠনের দৃঢ় ভিতেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে আশাবাদ, সুসংগঠিত পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসবে। লোয়াইরপোয়া মণ্ডলও এদিন প্রমাণ করেছে, ঐক্যবদ্ধ সংগঠন ও সঠিক নেতৃত্ব থাকলে কোনো লক্ষ্যই অধরা থাকে না। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।



